বছরের পর বছর শান্ত থাকার পর কেন আবারও সৌদির সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছে হুতিরা

অনলাইন ডেস্ক

​​​​ইয়েমেন যুদ্ধ যেন শেষ হয়েও হচ্ছিল না, বরং থমকে ছিল। দীর্ঘ চার বছর ধরে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে একপ্রকার যুদ্ধবিরতি চললেও, সংঘাতের মূল কারণগুলো কখনোই সমাধান হয়নি। তেল সম্পদের ভাগাভাগি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়াচ্ছিল। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। দুই চিরবৈরী দেশের উত্তেজনার আঁচ এবার ইয়েমেনেও লেগেছে। ফলে বছরের পর বছর শান্ত থাকার পর আবারও সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন এক সর্বনাশা যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছে হুতিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের কাছে যেকোনো সমস্যার একটাই সমাধান—যুদ্ধ। তারা মনে করে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইয়েমেনের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হবে এবং কাঙ্ক্ষিত তেল সম্পদের ওপর আধিপত্য বাড়বে। অন্যদিকে, নানা সংকটে জর্জরিত সৌদি আরব চেয়েছিল অর্থ দিয়ে শান্তি বজায় রাখতে। কিন্তু হুতি নেতা আবদুলমালিক আল-হুতি এক ভাষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তারা প্রস্তুত। পাল্টা জবাবে সৌদি রাষ্ট্রদূত হুতিদের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন।

হুতিরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে হামলার সময়টি বেছে নিয়েছে। মার্কিন-ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরব এখন পুরোপুরি লোহিত সাগরের ওপর নির্ভরশীল। আর ঠিক এই বড় সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে হুতিরা। সম্প্রতি তারা সৌদির দিকে জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জবাবে বাধ্য হয়ে হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট।

মূলত ২০২৩ সালের শেষে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল বিবদমান এই দুই পক্ষ। কিন্তু গাজা যুদ্ধ সব হিসাব পাল্টে দেয়। এরপর ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং চাপ বাড়ান।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি ইরানি ফ্লাইট। প্রায় এক বছর পর সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান নামার চেষ্টা করলে, অস্ত্র বহনের অভিযোগে সৌদি জোট সেখানে বিমান হামলা চালিয়ে ফ্লাইটটিকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য করে। এর পরপরই লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে অবরোধের ডাক দেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি আক্রমণ।

ইয়েমেন আবারও পুরোদস্তুর যুদ্ধে জড়াবে কি না, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের ওপর। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ২৩ জুলাই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত রাখলে হুতিদের চরম ‘সামরিক শাস্তি’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights