এফ-৩৫ ধ্বংস, হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত; ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটি ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক

কুয়েত-জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরানি বাহিনী।

ইরানের আইআরজিসি সূত্রে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে তারা কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটির দুটি ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং সামরিক বিমান-হেলিকপ্টারের জ্বালানি ডিপোতে সফল হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে মেনচওসিন্ট নামে একটি সামরিক বিশ্লেষণকারী অ্যাকাউন্টের প্রকাশ করা উপগ্রহ চিত্রেও একই স্থানে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলে। তাছাড়া জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। উপগ্রহের প্রাথমিক ছবিতে সেখানে থাকা এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আইআরজিসির দাবি, এই হামলায় অন্তত তিনটি মার্কিন এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জর্ডানের ওই ঘাঁটির যে নির্দিষ্ট অংশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, সেগুলোর নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছিল; জুলাই মাসের শুরুতেই সুবিধাগুলো চালু করা হয়। প্রায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে ছোঁড়া ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিখুঁত নিশানায় সেখানে আঘাত হানে। ক্ষয়ক্ষতির এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ মিললেও এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে। তবে অতীতেও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য গোপন বা কমিয়ে দেখানোর ইতিহাস রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

সূত্র: আল মায়াদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights