রংপুরে শেষ সিনেমা হলটিও বন্ধ হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

একসময় রংপুর শহরে ছিল ১০টি সিনেমা হল। ঈদ-পার্বণে নতুন ছবি মুক্তি পেলে টিকিটের জন্য দর্শকদের দীর্ঘলাইন পড়ত। সময়ের ব্যবধানে একে একে সব হল বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ টিকে থাকা শাপলা টকিজও গতকাল শুক্রবার থেকে বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে সিনেমা হলশূন্য হয়ে পড়ল রংপুর।

বন্ধের বিষয়টি মালিক পক্ষের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান সুমন নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যাকে সিনেমা হলটি ভাড়া দিয়েছিলাম। তিনি চুক্তি ভঙ্গ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। এতে আমাদের পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। হলটি প্রতিষ্ঠাতা আমার চাচা মরহুম মাসুম মিয়া খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কাজ এটি মেনে নিতে পারিনি। ফলে রংপুর চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

প্রবীণ বিনোদন প্রেমীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষের এ বাংলার রংপুরে প্রথম সিনেমা হল ছিল। এ হলের নাম ছিল রংপুর ড্রামাটিক হল। পরে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর হলটির নাম পরিবর্তন করে মডার্ন হল রাখা হয়। শহরের মাঝখানে এ সিনেমা হল থাকলেও চারপাশে ছিল যেন জঙ্গল। সে সময় নাগিন ছবিটি চালানো কালে ওই সিনেমা হলের পর্দার সামনে সাপ চলে এলে আতঙ্কিত দর্শকরা পালিয়ে যান। তারপর থেকে এ হলটি বন্ধ হয়ে যায়।

কয়েক বছর পর ভবনটি সংস্কার করে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, নাটক ও থিয়েটার মঞ্চায়নের উপযোগী করা হয়। এরপর এর নাম রাখা হয় টাউন হল। বর্তমানে এটি রংপুর নগরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পাকিস্তান আমলে রংপুরে একে একে গড়ে ওঠে শাপলা টকিজ, দরদী হল, ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, নূর মহল, চায়না টকিজসহ মোট ১০টি সিনেমা হল। তবে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়া এবং ব্যাবসায়িক মন্দার কারণে একে একে সব হল বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ শুক্রবার বন্ধ হলো শাপলা টকিজ। এর মধ্য দিয়ে রংপুরে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত শেষ সিনেমা হলটিরও পর্দা নেমে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights