দুই পথে হাঁটেন তারা, তবুও তাদের রোজই দেখা হয়!

অনলাইন ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ কেবল সবুজ ঘাসের মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই। এই দ্বৈরথ এখন রূপ নিয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক লড়াইয়ে।

ইউরোপের পাট চুকিয়ে দুই তারকা যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের ভিন্ন দুটি দিগন্তে পা রেখেছিলেন, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল এই নতুন আর্থিক মহাযুদ্ধ। কে কত আয় করছে আর কার মুকুটে যুক্ত হচ্ছে কত শত কোটি ডলার, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে চলছে তুমুল আলোচনা।

সৌদি ক্লাব আল-নাসেরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই আর্থিক দিক থেকে এক আকাশচুম্বী সাফল্যের দেখা পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে পা রাখার পর থেকে এ পর্যন্ত পর্তুগিজ যুবরাজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে প্রায় ৬৭৫ মিলিয়ন ডলার। মূল বেতন থেকে শুরু করে চুক্তিভিত্তিক নানা আকর্ষণীয় বোনাস; সব মিলিয়ে পেট্রোডলারের অন্তহীন স্রোতে ভাসছেন সিআর সেভেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ফুটবল বিশ্বে নিশ্চিত আয়ের দিক থেকে রোনালদোই একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট। বিশেষায়িত ওয়েবসাইট ক্যাবোলজির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি প্রো লিগে প্রতিটি মৌসুমে প্রায় বিশ কোটি ইউরো নেট বেতন পেয়ে থাকেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, তার ব্যক্তিগত ‘সিআর সেভেন’ ব্র্যান্ডের হোটেল সাম্রাজ্য, জিম চেইন এবং পোশাকের ব্যবসা এই বিশাল অঙ্কের সাথে যোগ করে দিচ্ছে আরও বহুগুণ অর্থ।

অন্যদিকে, লিওনেল মেসির মার্কিন মুলুকে ইন্টার মায়ামির হয়ে পথচলা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অর্থনৈতিক মডেলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গোলাপি জার্সির দলটিতে তার নিশ্চিত বার্ষিক পারিশ্রমিক বিশ দশমিক চার মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হলেও, সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা মিলিয়ে প্রতিটি মৌসুমে তার আয় ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে আমেরিকায় পা রাখার পর থেকে তার পুঞ্জীভূত সম্পদের পরিমাণ পৌঁছে গেছে প্রায় ২১০০ থেকে ২৪০০ মিলিয়ন ডলারে।

তবে মেসি কেবল একটি নির্দিষ্ট বেতনের অঙ্কে নিজের ক্যারিয়ারকে আটকে রাখেননি, তার আসল আর্থিক শক্তির উৎস লুকিয়ে আছে ভিন্ন এক বাণিজ্যিক মডেলে। এমএলএস-এ যোগদানের সময় করা চুক্তিতে অ্যাপল টিভির সাবস্ক্রিপশন এবং অ্যাডিডাসের জার্সি বিক্রির লোভনীয় রয়্যালটি যুক্ত করা হয়েছিল। ফোরবস ম্যাগাজিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চুক্তিতে ইন্টার মায়ামি ফ্র্যাঞ্চাইজির আংশিক মালিকানা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগও রয়েছে আর্জেন্টাইন জাদুকরের জন্য।

সৌদি আরবের বিশাল আর্থিক বিনিয়োগ আর আমেরিকার আধুনিক বিনোদন শিল্পের যৌথ অংশীদারিত্ব; এই দুই ভিন্ন কৌশল স্পষ্ট করে দেয় আধুনিক ফুটবলের রূপরেখা। একদিকে রোনালদো বেছে নিয়েছেন নগদ অর্থের পাহাড়সম ঝরনাধারা, আর অন্যদিকে মেসি বেছে নিয়েছেন ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির সুদূরপ্রসারী বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব। ক্লাব থেকে পাওয়া সরাসরি অর্থমূল্যে রোনালদো প্রায় ৪০ কোটি ডলারে এগিয়ে থাকলেও, দুই মহাতারকার ব্র্যান্ড ভ্যালু আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করছে।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights