ভারতে ছাত্র বিক্ষোভে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেফতার ২

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া এক সন্দেহভাজন দিল্লির জন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের পোশাক পরে অনুপ্রবেশ করে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজরদারির দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

গ্রেফতারকৃত ওই সন্দেহভাজনের নাম হামিম মণ্ডল। তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই ব্যক্তিকে দুই দিন আগে পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

এসটিএফের মহাপরিদর্শক গৌরব শর্মা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানে অবস্থানকারী হামিমের কথিত হ্যান্ডলাররা তাকে পুলিশের ইউনিফর্ম পরে দিল্লির জন্তর মন্তরে ছাত্রদের বিক্ষোভে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, হামিমকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তিনি কোথায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকতে পারেন, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গৌরব শর্মার ভাষ্য অনুযায়ী, “মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর একজন। তাকে এমন স্থানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল, যেখানে তিনি তুলনামূলকভাবে কম নিরাপত্তায় থাকতে পারেন।”

জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে আরও যোগাযোগের সূত্র
এসটিএফ জানায়, হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় জইশ-ই-মোহাম্মদের কয়েকজন কথিত হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আদালত তাকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফের হেফাজতে পাঠিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ঝাড়খণ্ড থেকে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তারা দু’জন মিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য মন্ত্রী উমেশ রায়ের ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফেলে অপহরণ এবং তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছিলেন।

এক কর্মকর্তা দাবি করেন, পাকিস্তানভিত্তিক কথিত হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই তারা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। ওই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের যোগসূত্র রয়েছে বলেও তদন্তকারীদের ধারণা।

‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ
পুলিশের দাবি, অর্পিতা সরকার একাধিক পরিচিত ব্যক্তি, এমনকি কয়েকজন রাজনীতিককেও ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে সেই তথ্য হামিম মণ্ডলের কাছে পাঠানো হতো।

তদন্তে তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রও পাওয়া গেছে বলে এসটিএফ জানিয়েছে।

উদ্ধার হয়েছে বিদেশি সিম কার্ড
তদন্তকারীরা হামিম ও অর্পিতার কাছ থেকে যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকো থেকে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক সিম কার্ড উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে। এসটিএফের ধারণা, এসব সিম ব্যবহার করে তারা এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে তাদের কথিত হ্যান্ডলার এবং ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদে জড়ানোর অভিযোগ
এসটিএফ জানায়, হামিম মণ্ডলের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তারা জানতে পেরেছে, পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভদের হয়ে কাজ শুরু করার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই তিনি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হন।

তদন্তকারীদের দাবি, ‘রানা’, ‘উজাইর’, ‘আবিদ জাট ৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের কথিত হ্যান্ডলার। এই চক্রটি উগ্রবাদে প্ররোচনা, জঙ্গি নিয়োগ এবং মাদক-সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে পরিচয়, সেখান থেকেই তদন্তের সূত্র
এসটিএফ জানায়, হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের পরিচয় হয়েছিল ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে। গত চার বছর ধরে তারা সম্পর্কে ছিলেন।

হানিট্র্যাপ-সংক্রান্ত একটি তদন্ত চলাকালে প্রথমে অর্পিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট তদন্তকারীদের নজরে আসে। সেখান থেকেই হামিম মণ্ডলের সন্ধান মেলে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

বর্তমানে এই কথিত নেটওয়ার্কের পরিধি, অন্যান্য সদস্য এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এসটিএফের কর্মকর্তারা। সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights