মাথা কামড়ে টেনে নিয়ে গেল ৩০০ মিটার, বাঘের আক্রমণে নারীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

গভীর রাতে কুঁড়েঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বছর ত্রিশোর্ধ্ব এক নারী। সেই সময় গ্রামে ঢুকে পড়ে বাঘ। ঘরের ভেতর থেকেই তার মাথা কামড়ে ধরে প্রায় ৩০০ মিটার টেনে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে বাঘটি পালিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই নারীর।

রোববার ভোররাতে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কানহা জাতীয় উদ্যানের খাপা রেঞ্জের অন্তর্গত পররাপুর বৈগাটোলা গ্রামে ঘটে ঘটনাটি। জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাঘটি ঢুকে পড়ে।

সুগনি বাই ধুরভে নামের ওই নারী একটি কুঁড়েঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকাই বাঘটি ঘরে ঢুকে তার মাথা কামড়ে বাইরে টেনে নিয়ে যায়। পরিবারের চিৎকার শুনে গ্রামের বাসিন্দারা টর্চ হাতে ছুটে আসে। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে বাঘটি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সুগনি বাইকে ফেলে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাইহারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। তবে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।

কানহা জাতীয় উদ্যানের সিজহোরা বাফার জোনের সহকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

বন দপ্তর বলছে, গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় বাঘ ও চিতাবাঘের লোকালয়ে ঢুকে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মৃত নারীর পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।এলাকায় একটি খাঁচা বসানোর পাশাপাশি টহল আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর। বাসিন্দাদের রাতে ঘরের দরজা বন্ধ রাখা, অকারণে জঙ্গলে না যাওয়া এবং শিশু ও প্রবীণদের একা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, মৃত নারীর পরিবার দরজাবিহীন একটি কুঁড়েঘরে বাস করত। খুবই পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী পরিবারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে আবাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প আছে সেই সুবিধাও তারা পায়নি। ফলে তাদের সুরক্ষা বলতে কিছু ছিল না।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights