‘জেনেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জের’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

জেনেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। কিন্তু শিশুদের রোগ নির্ণয় আরও কঠিন। তাছাড়া, শিশুদের জেনেটিক বা বংশগত কিডনি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় নিয়মিত স্ক্রিনিং, জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন অনেক বেশি জরুরি।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) কনফারেন্স হলে শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের উদ্যোগে ‘শিশুদের কিডনি রোগে জেনেটিক্স’ বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। চমেক হাসপাতালের শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সনৎ কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চমেকের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবদুর রব, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ এ. চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা এবং শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া। প্যানেল আলোচক ছিলেন চমেক হাসপাতালের শিশু কিডনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মারুফ উল কাদের।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সংক্রামক ব্যাধি ছাড়া অধিকাংশ রোগের সঙ্গেই জেনেটিক্সের কোনো না কোনো সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের কিডনি রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়নে জেনেটিক অ্যানালাইসিস ও জেনেটিক কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে চিকিৎসকদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নেফ্রোটিক সিনড্রোমসহ কিডনির বিভিন্ন জন্মগত রোগের চিকিৎসায় ভবিষ্যতে জিন থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশে জিন থেরাপি চালু না হলেও ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি চালুর সুযোগ তৈরি হবে। সেজন্য এখন থেকেই রোগীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ নিশ্চিত করতে হবে। প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি আধুনিক জেনেটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে থ্যালাসেমিয়া, হৃদরোগসহ বিভিন্ন বংশগত রোগের চিকিৎসায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

প্যানেল আলোচক ছিলেন অধ্যাপক ডা. মারুফ উল কাদের বলেন, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত স্ক্রিনিং, জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের জেনেটিক কিডনি রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। এ লক্ষ্যে চিকিৎসক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights