‘হলুদ সাংবাদিকতা’ করার অভিযোগে পাকিস্তানে আলজাজিরা নিষিদ্ধ
অনলাইন ডেস্ক
আজাদ কাশ্মিরের নির্বাচন ও সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ করার অভিযোগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান।
যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি, তবে সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে দেশটির কোথাও আলজাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
এর আগে, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আলজাজিরার বিরুদ্ধে ‘মনগড়া’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ তোলে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, মুজাফফরাবাদের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের তথ্য ও বাছাইকৃত ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের পেছনে কোনো গভীর উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে পাকিস্তান সরকার মনে করছে।’
আজাদ কাশ্মিরের চলমান পরিস্থিতি ঘিরেই আলজাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানায় পাকিস্তান। অঞ্চলটিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কয়েক মাস ধরে শরণার্থী কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে স্থানীয় রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের কারণে গত জুনে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।
এর মধ্যেই আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২৭ জুলাই, ২ আগস্ট ও ১০ আগস্ট তিন ধাপে তিন জেলায় ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। নির্বাচনের প্রথম দিন ২৭ জুলাই নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনতার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। এরপর থেকেই অঞ্চলটির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে আলজাজিরা নিষিদ্ধের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি। তবে আজাদ কাশ্মির পরিস্থিতি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
সিপিজে এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে বিক্ষোভের মধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অবনতি, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বন্ধ, সংবাদ পরিবেশনে বাধা এবং সাংবাদিকদের আটক বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। সংস্থাটি পাকিস্তান সরকারের প্রতি সাংবাদিকদের ওপর চাপ বন্ধ এবং স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর জম্মু-কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদসহ কয়েকটি এলাকা পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে অঞ্চলটি ‘আজাদ জম্মু-কাশ্মির’ নামে পরিচিত। এর বিধানসভায় মোট ৫৩টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ৩৩টিতে স্থানীয়রা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, উইওন।
