সবুজেমোড়া লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান, ঝুলন্ত ব্রিজ আর লেকে বাড়বে আয়

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

কুমিল্লার কোটবাড়ি জাদুঘর এলাকার সালমানপুরে অবস্থিত লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান সবুজপ্রেমীদের কাছে দিন দিন আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। পাহাড়ের মাথায় ইট বিছানো পথে সবুজের মাঝে হাঁটা, পাখির কিচিরমিচির আর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। তবে উদ্যানটির আরও সম্প্রসারণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এখানে ঝুলন্ত ব্রিজ ও লেক স্থাপন করা হলে দর্শনার্থী বাড়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৬ দশমিক ৪৫ একর জায়গার ওপর ২০১৫-১৬ সালে লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে পার্ক অফিস, সীমানা প্রাচীর, ক্যাকটাস হাউস, অর্কিড হাউস, দর্শনার্থীদের বসার জন্য আরসিসি বেঞ্চ ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্যানে বিরল প্রজাতির ৭৮ ধরনের প্রায় ১ হাজার ৭৫০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাকটাস হাউস ও অর্কিড হাউসের জন্য ২৬০টি করে ক্যাকটাস ও অর্কিডের চারা আনা হয়েছে।

উদ্যানটিতে বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির বিভিন্ন উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—রাধাচূড়া, নাগেশ্বর, আগার, নাগলিঙ্গম, কাঞ্চন, অশ্বত্থ, চন্দন, রক্তচন্দন, চালমুগরা, লোহাকাঠ, চাপালিশ, ধূপ, বাবলা, হরীতকী, বহেড়া, হিজল, তমাল, অশোক, অর্জুন, মহুয়া, তেলশুর, পারুল, জারুল, চম্পা, টগর, বেলি, চিকরাশি, রঙ্গন, করমচা, সোনালু, বট ও কৃষ্ণচূড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোটবাড়ি জাদুঘর মসজিদের দক্ষিণ পাশ দিয়ে সিসিএন ইউনিভার্সিটির দিকে যাওয়া সড়কের পাশে অবস্থিত এ উদ্যান। পাহাড়ের গায়ে তৈরি সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মেলে গাছপালায় ঘেরা মনোরম পরিবেশের। চারদিকে সবুজের সমারোহ, ফুলে ঘুরে বেড়ানো মৌমাছি ও প্রজাপতি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। তবে উদ্যানের সীমানা দেয়ালের কাঁটাতার নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি সাইনবোর্ডের লেখা মুছে গেছে এবং ক্যাকটাস ও অর্কিড হাউসের বেড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মাসউদ বলেন, ‘লালমাই পাহাড়ের উদ্যানটি কুমিল্লাবাসীর ফুসফুস হিসেবে কাজ করতে পারে। বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ থাকায় শিক্ষার্থী ও শিশুরা উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবে। উদ্যানের পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এখানে দুই পাহাড়ের মাথায় ঝুলন্ত ব্রিজ এবং নিচে লেক স্থাপন করা হলে দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।’

কুমিল্লা নগরীর সৌখিন বাগানি অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘কোটবাড়ি একটি পর্যটন এলাকা। কুমিল্লা নগরী ও আশপাশে তেমন বড় কোনো বাগান নেই। লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানকে পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তুললে বিরল উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে।’

লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার দিলীপ কুমার দাস বলেন, ‘উদ্যানটি পরিপাটি করে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে দর্শনার্থীদের বসে অবসর কাটানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। আরও ৭ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের পর ঝুলন্ত ব্রিজ ও লেক স্থাপন করা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights