২০ বছর পর কাবাডিতে পদকের আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ১৯৭৮ সাল থেকে অংশ নিচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত বড় প্রাপ্তি ২০১০ সালে পুরুষ ক্রিকেটে সোনা পাওয়া। কাবাডিই ছিল একমাত্র খেলা গেমসে পদক পাওয়াটা নিশ্চিত ছিল। সোনা জিততে বাংলাদেশের লড়াই হতো ভারতের বিপক্ষে। দুটি দেশকে কেউ টপকিয়ে যাবে সেই সামর্থ্য কারোর-ই ছিল না। পুরুষ কাবাডিতে ভারত সোনা, বাংলাদেশের রৌপ্য জেতাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এশিয়ান গেমসে যখন কাবাডি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তখন দুটি দেশ ছাড়া ভালো খেলা তো দূরের কথা ঠিক মতো নিয়মকানুনও জানত না। এখন বাংলাদেশের করুণদশা। ২০০৬ সালে দোহা এশিয়ান গেমসে তামা জেতার পর পদকই আর গলায় ঝুলাতে পারেনি লাল-সবুজের দল।

কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হলেও সেখানে এখন দাপট দেখাচ্ছে অন্যরা। ভারত তাদের শক্তিশালী রূপ ধরে রাখলেও নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও জাপান। এতটা শক্তিশালী, কেউ কেউ ভারতকে হারিয়ে সোনা জেতার রেকর্ড গড়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানে পর্দা উঠছে এশিয়ান গেমসের। যা শেষ হবে ৪ অক্টোবর। শুধু পুরুষ নয়, কাবাডিতে বাংলাদেশের মেয়েরা এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে। কী করবে এবার জাতীয় খেলা কাবাডির দেশ বাংলাদেশ? এখন পুরোদমে চলছে দুই দলের প্রস্তুতি। দুটোই দেখভাল করছেন দেশের কাবাডির পরিচিত মুখ আবদুল জলিল। বাংলাদেশের কাবাডির ইতিহাস লিখতে গেলে কোনোভাবেই জলিলের নাম আড়াল করা যাবে না। খেলোয়াড় হিসেবে যেমন এশিয়ান গেমসে পদক জিতিয়েছেন। তেমনি কোচ হয়ে এনে দিয়েছেন সাফল্য। ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শিরোপা এনে দিয়েছেন তিনিই। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন জলিল অথচ তাঁর জাপান যাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা নতুন অ্যাডহক কমিটি তাঁকে কিছুদিন আগে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে। তার আগেই বিলুপ্ত করা কমিটি আরেক কোচের নাম পাঠিয়ে দিয়েছে। জলিল বলেন, ‘আমি গেমসে কোচ হিসেবে যেতে পারব কি না তা নির্ভর করছে ফেডারেশনের ওপর। দায়িত্ব নিয়ে পুরুষ ও মেয়েদের পারফরম্যান্স যাচাই করছি। পুরুষ বিভাগে ২৬ ও মেয়েদের ১৭ জন ক্যাম্পে রয়েছেন। দুটো দলেই চূড়ান্তভাবে ১২ জন করে বাছাই করা হবে।’ গেমসে কি আশা করা যায়? এ ব্যাপারে জলিল বলেন, ‘লক্ষ্য অবশ্যই পদক জয়। তবে দুই বিভাগেই বাংলাদেশ কঠিন গ্রুপে পড়েছে। পুরুষে ভারত, চাইনিজ তাইপে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে খেলতে হবে। এক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশকে কাবাডির হট ফেবারিট দল বলা হতো। অস্বীকার করব না আমরা এখন সেই অবস্থানে নেই। চাইনিজ তাইপে ও দক্ষিণ কোরিয়াও যথেষ্ট শক্তিশালী। গ্রুপে জাপানকেও দুর্বল ভাবা যাবে না।’ কোচ জলিল বলেন, ‘২০০৬ সালে পুরুষ কাবাডিতে বাংলাদেশ শেষবার তামার পদক জিতেছিল। সেবার আমিই কোচ ছিলাম। ২০ বছর পর অবশ্যই পদকের আশা করছি। অনুশীলনে ছেলেরা ভালো করছে। গ্রুপে যদি দক্ষিণ কোরিয়া ও চাইনিজ তাইপেকে হারাতে পারি তাহলে সেমিফাইনালের পথ যেমন সহজ হবে। তেমনি পদক জেতার সম্ভাবনা তৈরি হবে। মেয়েরে গ্রুপও শক্তিশালী। খেলতে হবে ভারত, জাপান ও ভারতের বিপক্ষে। চেষ্টা করছি মেয়েদের ভালোভাবে প্রস্তুত করতে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights