চিরকুটে প্রশ্ন, মুখস্থ করে ফাঁস, নিট কেলেঙ্কারিতে তিন বিশেষজ্ঞের ভয়ংকর কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের বহুল আলোচিত নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির তিন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন মুখস্থ করে, চিরকুটে লিখে এবং পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন বলে সিবিআইয়ের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির হাতে আসা সিবিআইয়ের ৯৪ পৃষ্ঠার চার্জশিটে প্রশ্ন ফাঁসের এই কৌশলের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

যেভাবে ফাঁস করা হতো প্রশ্ন

সিবিআইয়ের চার্জশিটে প্রশ্ন ফাঁসের মূল কারিগর হিসেবে তিন বিশেষজ্ঞকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রসায়ন বিষয়ের পি ভি কুলকার্নি, উদ্ভিদবিজ্ঞানের মনীষা মান্ধারে এবং পদার্থবিজ্ঞানের মনীষা হাবালদার।

তদন্তে জানা যায়, ডিজিটাল নজরদারি এড়াতে তাঁরা প্রশ্ন ফাঁসের জন্য বেশ কয়েকটি কৌশল ব্যবহার করতেন। এনসিইআরটি পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ চিহ্নিত করে রাখা, চিরকুটে প্রশ্ন লিখে নেওয়া এবং সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে রাখতেন তাঁরা।

এরপর দিনের কাজ শেষে হোটেলে ফিরে মুখস্থ করা প্রশ্নগুলো খাতায় লিখে রাখা হতো। পরে এসব প্রশ্ন কোচিং সেন্টার ও দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বিভাগীয় কাজের সুযোগে প্রশ্নগুলোর নাগাল পেতেন ওই তিন বিশেষজ্ঞ। চার্জশিট অনুযায়ী, পি ভি কুলকার্নি একাই তিন দিনে ১৩৫টি প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন বলে বিএসআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে গোপন কোচিং সেশনে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ওই প্রশ্নগুলো হাতে লিখিয়ে নেওয়ার প্রমাণও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে চার্জশিটে বলা হয়েছে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ঘাটতি

চার্জশিটে এনটিএর গোপনীয় বিভাগে নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের যাতায়াতের সময় সেখানে শারীরিক তল্লাশি বা মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রশ্ন তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রশ্ন নিয়ে বের হচ্ছেন, তা শনাক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না।

সিবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং নিজেদের পছন্দের কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সুবিধা করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই অভিযুক্তরা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

দেশজুড়ে তোলপাড়

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনও হয়।

এরই মধ্যে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে সিবিআই। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালানো হয় এবং ডিজিটাল ডিভাইসসহ বিভিন্ন নথি জব্দ করা হয়।

মামলায় বর্তমানে ১৩ জন অভিযুক্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। সিবিআই দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে ২০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্রসহ চার্জশিট জমা দিয়েছে। এতে ৩৬০ জন সাক্ষী ও ৪২২টি দাপ্তরিক নথি যুক্ত করা হয়েছে।

মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যের ৯২টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights