দহগ্রামে আকস্মিক বন্যায় ১০ গ্রাম প্লাবিত, সড়ক ভেঙে চলাচল বন্ধ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যায় দহগ্রাম ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন হাজার পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় ইউনিয়নের অনন্ত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাপে ওই সড়কটি ভেঙে যায়, ফলে পানি লোকালয়ে ঢুকে ১০ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দহগ্রামের ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দুই থেকে তিন ফুট পানি বাড়ে। তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি মহকুমার ধাপড়া, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি এলাকা হয়ে বাংলাদেশের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ অংশজুড়ে প্রবাহিত। তিস্তার পানিতে এই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এসব এলাকার প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের ক্ষেত বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাওয়ায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় দহগ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকার সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই দিকের সংযোগ-সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড় এলাকা থেকে আঙ্গরপোতা ও পাটগ্রাম যাওয়ার আঞ্চলিক পাকা সড়কটির প্রায় ২০ ফুট এলাকা ভেঙে প্রায় ১০ ফুট গর্ত হয়েছে। এতে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়া এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

দহগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সালাম মিয়া বলেন, শুক্রবার ‘সকালে এসে দেখি সড়ক ভেঙে গেছে। এ রাস্তা ঠিক না করলে চলাচল করা অসম্ভব। ভাঙা সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে যাওয়ার ভয় আছে। অনেক পরিবার সমস্যায় পড়েছে।’

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের (ফ্লাশ ফ্লাড) স্রোতে দহগ্রামের এই সড়ক ভেঙে যায়। আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি, কাজ করছি। আজ-কালের মধ্যে সড়কটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।’

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ‘বন্যায় সড়ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনা জেনে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা মেরামত করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া ওই এলাকার ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি কমতেও শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights