পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বপ্নে নতুন আলো

অনলাইন ডেস্ক
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই বেড়ে উঠেছেন মাসুমা আক্তার। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অজপাড়াগাঁয়ের মেয়ে মাসুমা ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ ৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

কিন্তু মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের পথ থমকে দাঁড়ায় অভাবের কাছে। মাসুমার বাবা ভ্যানচালক। সংসারের সীমিত আয় দিয়ে মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে গ্রামের এক স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে তাঁকে বিয়ে দেন মা-বাবা।

বিয়ের পরও জীবন বদলায়নি। নতুন সংসারেও অভাব পিছু ছাড়েনি মাসুমার। যখন চারদিকে হতাশা ঘিরে ধরেছিল, তখন আশার আলো হয়ে আসে সুন্দরগঞ্জে চালু হওয়া বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে তিন মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে সেলাইয়ের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন মাসুমা।

আর সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি সেলাই মেশিন। বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে আপ্লুত মাসুমা বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে কিছু একটা করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আজ সেলাই মেশিন পেয়ে মনে হচ্ছে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারব। নিজের আয় দিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই।’

মাসুমার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে একই কথা বলেন বাকি ১৯ জন নারী। সম্প্রতি তিন মাস সফল প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২০ জন নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রত্যেককে একটি করে ফলদ গাছের চারাও উপহার দেওয়া হয়।

পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বপ্নে নতুন আলোসুন্দরগঞ্জের সরোবর পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সঞ্চালনায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. আরেফিন আজিজ সরদার সিন্টুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে অসচ্ছল ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও গাছের চারা তুলে দেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু, ধুবনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেলিম রেজা, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মান্নান আকন্দ, স্বপ্নময় সোনারায়ের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, বসুন্ধরা শুভসংঘের নুর ইসলাম মিয়া নুর প্রমুখ।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘সেলাই মেশিন একজন নারীর আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কার্যকর হাতিয়ার। আমরা আশা করি, এই মেশিনগুলো কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। আজ রোপণ করা একটি চারাই আগামী দিনে ছায়া, ফল ও বিশুদ্ধ বাতাসের উৎস হবে।’

বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু বলেন, ‘একটি সেলাই মেশিন হয়তো সব সমস্যার সমাধান নয়, তবে এটি আত্মনির্ভরশীলতার পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। সেলাই কাজের চাহিদা সব সময়ই রয়েছে। তাই এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীরা নিজেদের পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।’ আরেফিন আজিজ সরদার সিন্টু বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করি কিভাবে মানুষের উপকার করা যায়, কিভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায়। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে সেলাই মেশিন বিতরণের এই উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টারই অংশ। আমরা চাই সুবিধাভোগীরা এই সেলাই মেশিন শুধু ঘরে রেখে না দিয়ে আয়ের কাজে ব্যবহার করুন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠুন। একই সঙ্গে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হোক এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর সহায়তায় আরো উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।’

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখার উপদেষ্টা হুমায়ুন আহম্মেদ বিপ্লব, শুভসংঘের সদস্য আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, জান্নাতুল আক্তার, ছামিউল বাসির, আশিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আহসান আজিম প্রধান ও তৌহিদুল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার আমিনুল ইসলাম আকাশ, শাহিন মিয়া, মো. আরমান মিয়া, এস এইচ আসাদ সরকার, শহীদুর রহমান সুমন, আল-মামুন, মঈনুল ইসলাম, রওশন আলী, জুয়েল রানা, তনয় কুমার পল্লব ও বৃষ্টি সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights