ভ্যাট ফাঁকি রোধে নজরদারি বাড়াচ্ছে এনবিআর
রাশেদ হোসাইন
নতুন কোনো করের বোঝা না চাপিয়ে ভ্যাট আদায় বাড়াতে ভিন্ন পন্থা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ভ্যাট বাড়াতে উন্নত তদারকি, ডিজিটাল ফাইলিংয়ের ব্যাপক ব্যবহার, ডেটা অ্যানালিটিকসের ব্যবহারের ওপর নজর দিচ্ছে সংস্থাটি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিগত অর্থবছরের চেয়ে অতিরিক্ত ৯৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এর বড় একটি অংশ অর্জনে এনবিআরের নজরদারিতে আসছে হাজারের বেশি মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠান। এর অংশ হিসেবে এবার উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের কর কর্তনের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে চলে, তাহলে তাদের নথিপত্র ও কম্পিউটার যাচাইও করা হবে।
এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসে ১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন রয়েছে এবং ভ্যাট ফাঁকির ঝুঁকি বেশি এমন প্রায় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বছরে ১ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট প্রদানকারী প্রায় ২ হাজার বড় করদাতার ওপরও আলাদা নজরদারি চালিয়ে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যান্য উৎস মিলিয়ে শুধু ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটনের মাধ্যমেই অতিরিক্ত ৩৮ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। শুধু ভ্যাট নয়, প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে তামাক খাত থেকে ১২ হাজার কোটি, বকেয়া আদায় থেকে ১৪ হাজার কোটি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি এবং স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির কারণে আরও প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আসবে বলে আশা করছে রাজস্ব বোর্ড। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের কাছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফাঁকি উদ্ঘাটনের মাধ্যমে বাড়তি এ ভ্যাট আদায়ের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে এনবিআর। এ ছাড়া তামাক খাতে নজরদারি বাড়ানো, সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা, কারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপন এবং ৬৬ হাজার করদাতার অডিট দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব জড়িত ২৩টি বড় কর বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সরকার এনবিআরের মাধ্যমে প্রায় ৬.০৪ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের চেয়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এটিই সর্বোচ্চ বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা।
১৯ জুলাই এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উৎসে কর আদায় যাচাই করতে কর্মকর্তারা যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখ বলেন, ‘এনবিআর করজাল সম্প্রসারণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে। এসবের মাধ্যমে অধিক ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ভ্যাট কমিশনারেটসমূহের অধিক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণ করে নতুন ভ্যাট কমিশনারেট গঠন করছে। পরোক্ষ করব্যবস্থা আরও গতিশীল, কার্যকর এবং আধুনিক করার উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
