উটপাখি ও এমুর ডিম দেখতে ভিড়
দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল
উটপাখির ডিমের কথা শুনেছেন অনেকেই; কিন্তু দেখেছেন এমন মানুষ মেলা ভার। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে ডিম পেড়েছে উটপাখি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার এমু পাখিও ডিম দিয়েছে। আর এই দুই প্রজাতির পাখির ডিম দেখে দর্শনার্থীদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত এই বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে উটপাখি দুটি ও এমু পাখি একটি ডিম দিয়েছে। ডিমগুলো পার্কে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেগুলো হাতে নিয়ে দেখছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। আর এমুর সবুজাভ-নীলচে রঙের ডিমটি বেশ বড়। দুটি উটপাখি ও দুটি এমুপাখিকে পার্কে আলাদা খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে এদিক-ওদিক হাঁটাচলা করে। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট হয়। ওজন ৬৩ থেকে ১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ডানা থাকলেও ভারী শরীরের কারণে তারা উড়তে পারে না। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। এদের আবাস মূলত আফ্রিকার তৃণভূমি, সাভানা ও শুষ্ক অঞ্চল।
আর উড়তে-অক্ষম এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ পাখির উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট লম্বা। ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত। তারা ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। এমুর ডিমের ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম। উটপাখির ডিমে তা দেয় স্ত্রী পাখি। আর এমুর ডিমে তা দেয় পুরুষ পাখি। জানা যায়, বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ দেশের অন্যতম বড় পরিবেশবান্ধব পাখি উদ্যান। এখানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে।
দর্শনার্থী শ্রবণী তালুকদার বলেন, ‘আমি এই প্রথম উটপাখির ডিম দেখলাম। আগে এখনো দেখিনি। ডিমগুলো বেশ বড় ও দৃষ্টিনন্দন।’ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের দেখার জন্য ডিমগুলো সংরক্ষণ করা হবে।’
