সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর
অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে মিসর।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করার পরদিন মিসরকে জোটে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।
সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এ চুক্তি সই করে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ওই যুদ্ধে আশপাশের দেশগুলোও জড়িয়ে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এ যুদ্ধ ইরান ও ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথিদের আরও সক্রিয় করে তুলেছে। ইরান ও হুথিরা— উভয়েই সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া গত মাসে ভূমধ্যসাগরের একটি মিসরীয় বন্দরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাতেও ড্রোন আঘাত হানে।
এমন অবস্থায় তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, তিনি আশা করছেন মিসরও ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ যোগ দেবে। তিনি মিসরকে ‘সব বিষয়ে স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তী ধাপে মিসরও আমাদের এই জোটের অংশ হবে। আমরা ইতোমধ্যে একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে কাজ করছি, যেন আমরা জোটের সদস্য।”
ফিদান বলেন, “কিছু কারিগরি বিষয় রয়েছে। সেগুলো সমাধান হয়ে গেলে মিসরের এ জোটে না থাকার কোনও কারণ নেই।”
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনও নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমরা কোনও অভিন্ন হুমকির কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করিনি।”
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী জোটের কোনও একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ‘সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা’।
সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তি ‘এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এই জোট আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের ভাবনা অনুযায়ী, আমাদের শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমাদের আরও বড় হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সব দেশকে এই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে।” সূত্র: আরব নিউজ, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি
