এআই ব্যবহারে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেভাবে পরিবেশগত ক্ষতি ঠেকাতে পারেন আপনিও
অনলাইন ডেস্ক
চোখধাঁধানো ডিজিটাল আলো আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মায়াজালের নেপথ্যে ধেয়ে আসছে এক অদৃশ্য পরিবেশগত বিপর্যয়। আমরা যখন অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো এআই চ্যাটবটের কাছে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি, ঠিক তখনই অদৃশ্য এক মহাশক্তি গ্রাস করে নিচ্ছে পৃথিবীর বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
এআইয়ের প্রতিটি জটিল হিসাব-নিকাশের পেছনে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা অবিরাম চলছে বিশাল বিশাল সব ডেটা সেন্টার। বিশাল পরিমাণের বিদ্যুৎ অপচয়, সুপেয় পানির নিঃশেষকরণ আর বায়ুমণ্ডলে টন কে টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের ক্ষতিকর নিঃসরণ; সবমিলিয়ে আমাদের এই প্রযুক্তি বিপ্লব ধরণীর বুক চিরে ডেকে আনছে পরিবেশের চরম বিপর্যয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার দেওয়া তথ্য বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে এই ডেটা সেন্টারগুলো বার্ষিক প্রায় ৪১৪ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে, যা সমগ্র বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১.৫ শতাংশ। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রতি বছর এই চাহিদার হার হু হু করে বাড়ছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই বিদ্যুতের চাহিদা দ্বিগুণ ছড়িয়ে যাবে। আর এই বিপুল বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে গিয়ে আবারও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানি, অন্যদিকে ডেটা সেন্টারের যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখতে নিঃশেষিত হচ্ছে খরাকবলিত অঞ্চলের সুপেয় পানির আধার।
তবে প্রযুক্তির এই সর্বগ্রাসী শক্তির সামনে সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা কিন্তু একদম অসহায় নই। বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগে ছোট একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্তও রুখে দিতে পারে পরিবেশের বড় ধ্বংসলীলা। অতি সাধারণ সব প্রশ্নের উত্তরের জন্য এআই চ্যাটবটের দ্বারস্থ না হয়ে ঐতিহ্যবাহী সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করাই হতে পারে আমাদের প্রথম প্রতিহত করার হাতিয়ার।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস কিংবা দৈনন্দিন সাধারণ তথ্যের জন্য বিশাল এআই মড্যুল চালানো মানে মশা মারতে কামান দাগার শামিল। গবেষকরা স্পষ্ট দেখিয়েছেন, বড় বড় অল-পারপাস লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের বদলে নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি ছোট ও বিশেষায়িত মডেল ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।
তাছাড়া চ্যাটবটের উত্তর যত দীর্ঘ হয়, পরিবেশের ওপর তার শক্তির চাপ ততটাই জ্যামিতিক হারে বাড়ে। তাই এআইকে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে বাধ্য করা কিংবা পাঁচ লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিলেই অর্ধেক বিদ্যুৎ বাঁচানো সম্ভব হয়। অন্যদিকে ছবি বা ভিডিও তৈরির মতো জটিল প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি পিক্সেল বারবার প্রসেস করতে হয় বলে সেখানে শক্তির অপচয় ঘটে সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজন ছাড়া উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তৈরি না করা এবং নতুন ছবি তৈরির বদলে পুরোনো ছবি সম্পাদনা করার মতো ছোট সচেতনতাই এই মহাবিপর্যয় ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স
