এমপির গলায় রামদা ধরে দলিলে সই নেন সৎভাইয়েরা—অভিযোগে স্ত্রীর মামলা

অনলাইন ডেস্ক

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালের এ ঘটনায় গত সোমবার সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে দিরাই আদালতে একটি মামলা করেছেন।

আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা ও আদালতের আদেশের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহিত লাল চন্দ।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপন গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলায় পারভীন আকতার অভিযোগ করেছেন, নাছির চৌধুরীর (৭৫) গলায় রামদা ধরে হুমকি দিয়ে তিন সৎভাই তার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের দলিলে সই নিয়েছেন। তার স্বামী তখন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ও মানসিকভাবে অবুঝ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে সৎভাইয়েরা বঞ্চিত হবেন ভেবে এই সম্পদ নিজেদের নামে দলিল করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। নাছির চৌধুরীর সম্পত্তি থেকে তার দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বঞ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। তিনি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা থেকে অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে দেখতে তাঁর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। এরপর তিনি অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে সেখানে তার প্রথম স্ত্রী নিঃসন্তান শেলী চৌধুরী ও বোন শামীমা চৌধুরীর কাছে রেখে যান। এই দুজনও তখন অসুস্থ ছিলেন। এরপর আসামিরা ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারা অসুস্থ ও মানসিকভাবে অবুঝ নাছির চৌধুরীকে দলিলে সই করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। পরে তারা নাছির চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে সই না করলে গলা কেটে হত্যার ভয় দেখান। এ সময় স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে আাসমিরা তাকেও হত্যার হুমকি দেন। পরে তিনি দলিলে সই করেন।

মামলার আরজিতে পারভীন আকতার দাবি করেন, পরে তিনি এসে পুলিশের সহায়তায় নাছির চৌধুরীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি জোর করে দলিলে সই নেওয়ার বিষয়টি তাকে জানান। বিষয়টি নিয়ে পরে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলে আসামিরা ক্ষমা চান এবং দ্রুত দলিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। ঘটনার পরে শেলী চৌধুরী ও শামীমা চৌধুরী দুজনই মারা গেছেন।

এ প্রসঙ্গে মামলার অন্যতম আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‌‘‘দলিল রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রার। আমার বোন এবং নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ‘প্রকৃত’ স্ত্রী বিষয়টি জানতেন। মামলা কী হয়েছে জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেব।’’

নাছির চৌধুরী সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights