দক্ষিণ আফ্রিকায় খনির বর্জ্যের স্তূপ ধসে নিহত ১৪ শ্রমিক
অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি বৈধ খনি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলার স্থান ধসে অন্তত ১৪ জন অবৈধ খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির একটি স্থানীয় প্ল্যাটিনাম ও অন্যান্য ধাতু উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত বর্জ্যের স্তূপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বর্জ্যের বিশাল স্তূপে অবৈধভাবে খননকাজ চালানোর সময় হঠাৎ একটি বড় অংশ ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকে প্রাণ হারান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করেছে।
নিহত ও আহতদের অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ লেসোথো থেকে আসা নথিপত্রহীন অভিবাসী বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসা শেষে তিন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ খননকাজ ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর্থার অ্যাডামস দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের খননকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ খনি শ্রমিকরা স্থানীয় জুলু ভাষায় ‘জামা জামা’ নামে পরিচিত। এর অর্থ ‘যারা ভাগ্য পরীক্ষা করে’। বহুজাতিক খনি প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর বন্ধ বা পরিত্যক্ত খনি এবং বর্জ্যের স্তূপে জীবিকার সন্ধানে নামেন বহু বেকার ও নথিপত্রহীন মানুষ।
নিরাপত্তাহীন এসব স্থানে প্রায়ই ধস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে দেশটির স্টিলফন্টেইনের একটি পরিত্যক্ত খনি থেকে ৭৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।
