কুড়িগ্রামে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নামে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এনসিপি নেতার মহড়া

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১৫.০৮.২০২৬
কুড়িগ্রামে নিরাপত্তার নামে সাথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাজ্য জ্যোতির উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবশক্তি নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে এনসিপিকে নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা মূলক পোস্ট করায় এনসিপির যুব শক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল ইসলামের নেতৃত্বে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রাজ্য জ্যোতির ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডি নম্বর ৮৩৪।
ঘটনার পর দুই পক্ষই সদর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জন্য গিয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পরে পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুর রহিম দুপক্ষের সাথে কথা বলে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র সাথে নিয়ে মোহরা দেওয়ার ব্যাপারে যুগশক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমরা আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে সব সময় একসাথে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করি। এ সময় এনসিপির ছাত্র শক্তির জেলা জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে শনিবার দুপুরে আহত রাজ্য জ্যোতি থানায় উপস্থিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি অন্তর্ভুক্ত করেন।
সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপিকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়স্থ সাধারণ পাঠাগারের সামনে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা রাজ্য জ্যোতির উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাত্র শক্তি ও যুগশক্তির একটি পক্ষ হামলা চালায়। এতে রাজ্য জ্যোতি আহত হলে পরে আশেপাশে থাকা লোকজন গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে চলে যায়।
আহত রাজ্য জ্যোতি জানায়, আমি জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির একজন যোদ্ধা। জুলাই আন্দোলনে গিয়ে আমার উপর ও আমার বাড়িতেও একাধিকবার হামলা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্র শক্তির কতিপয় ব্যক্তি গণতন্ত্রের নামে জুলাই বানিজ্য করছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলার কারণে আমার কন্ঠ রোধ করতে তারা পরিকল্পিতভাবে আমার উপর হামলা করেছে।
হামলার ব্যাপারে রাজ্য জ্যোতি বলেন, জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব তমাল কথা বলার জন্য রাস্তায় দাড় করায়। এ সময় তার নেতৃত্বে একদল ছেলে হকস্টিক ও বাঁশের লাঠি নিয়ে আমার উপর হামলে পড়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। আমার বাঁ হাতের কব্জির উপরে হকিস্টিক দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়েছে যা অনেকাংশে ফুলা যখন হয়। আমি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নলেজে দিয়েছি। এছাড়াও নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।
যুব শক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল ইসলাম বলেন, আমাদের এনসিপি জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক (মিডিয়া সেল) তৌহিদ ইসলামকে আটক করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। পরবর্তীতে সেখানে একটা গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়। মারধরের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন আমার সাথে থাকা কেউ তাকে মারে নাই। অন্য কেউ হয়তো মেরে থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য এনসিপি মিডিয়া সেলের প্রধান রাশেদুজ্জামান তৌহিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা অনিরুদ্ধ প্রণয় প্রান্তিক বলেন, ফেসবুকে লেখালেখি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সকলের আছে। এটা নিয়ে কারো উপর হামলা করা মোটেই কাম্য নয়। কোন বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি বা কথা কাটাকাটি হতেই পারে। এটার জন্য আইন আদালত আছে অথবা স্থানীয়ভাবে উচ্চপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সহায়তায় সমাধান করা যায়। তাই বলে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কারো উপর হামলা করাটা একদম বেআইনি। এটা এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আমি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য জ্যোতি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
