পোনা উৎপাদনে বাজিমাত

সাইফুল ইসলাম বেগ, বিশ্বনাথ (সিলেট)

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ বুরহান হোসেইন। অল্প পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করা হ্যাচারি থেকে এখন প্রতি বছর ১২-১৫ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। নিয়ম মেনে পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ফিস কেয়ার সাইন্টিফিক হ্যাচারি’। তার এ হ্যাচারি থেকে উৎপাদিত মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান হয়েছে ১২ জন শ্রমিকের।

সরেজমিন উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের শহীদ সুলেমান নগরে গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ি সংলগ্ন প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে রয়েছে ছোট-বড় ১০টি পুকুর। সব পুকুরেই রয়েছে তেলাপিয়া মাছ। কোনোটিতে মা মাছ, কোনোটিতে অল্প বয়সী পোনা, আবার কোনোটিতে চলছে মিশ্র চাষ। দুটি পুকুরের মাঝখানে রয়েছে পোনা উৎপাদনের মূল হ্যাচারি। পাশেই পোনা লালন-পালনের শেড। এখানেই অক্সিজেনসহ পোনা প্যাকেটজাত করে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

হ্যাচারির শ্রমিক সবুজ মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা একাধিক শ্রমিক এ হ্যাচারিতে কাজ করছি। এ কাজের আয়েই আমাদের সংসার চলে। আর এখানে উৎপাদিত পোনার মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।

হ্যাচারির পরিচালক মোহাম্মদ বুরহান হোসেইন বলেন, ‘মাছ চাষ কাউকে ঠকায় না। আমি ২০১৭ সালে ১৫ বিঘা জমিতে মাত্র পাঁচটি পুকুর নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। মাছের পোনা উৎপাদনে ভালো মুনাফা হওয়ায় ধীরে ধীরে হ্যাচারির পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে ৩০ বিঘা জমিতে রয়েছে ছোট-বড় ১০টি পুকুর। এ খামারে নিয়মিত কর্মসংস্থান হয়েছে ১২ জন শ্রমিকের।’

তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পোনা উৎপাদন ও বিক্রি থেকে প্রতি বছর ১২-১৫ লাখ টাকা আয় হয়। বছরের মার্চ থেকে পোনা বিক্রি শুরু হয়ে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত চলে। অক্সিজেনসহ প্যাকেটজাত করে সুনামগঞ্জ, জকিগঞ্জ, নবীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমরা পোনা পাঠাই। এছাড়া কার্পজাতীয় মাছের মিশ্র চাষ থেকেও বছরে অতিরিক্ত আয় হয় ৭-৮ লাখ টাকা।’
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার ধর বলেন, ‘এ হ্যাচারি থেকে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদন করা হয়। মানসম্মত এসব পোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের মাছের উৎপাদন বাড়াতে এ হ্যাচারির অবদান অনস্বীকার্য। তার পথ অনুসরণ করে অন্যরাও মাছের খামার গড়ে তুলতে পারেন। এতে দেশের মৎস্য সম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights