হাল্যান্ডের পর দাবায় বিনিয়োগ সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলারের
অনলাইন ডেস্ক
স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে ‘গ্লোবাল চেস লিগ’-এর একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কৌশলগত অংশীদার হয়েছেন।আর্লিং হাল্যান্ডের মতো আরও অনেক ক্রীড়াবিদ এখন এমন সব খেলায় বিনিয়োগ করছেন, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক পণ্যে পরিণত হচ্ছে।
সোমবার(১৭ আগস্ট) ভারতের বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া ও মিডিয়া কোম্পানি ‘কসমস’-এর প্রতিষ্ঠাতা পিকে ‘ফায়ারস আমেরিকান গ্যাম্বিটস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বার্সেলোনার সাবেক এই ফুটবলার এক বিবৃতিতে বলেন, দাবা আমাকে দীর্ঘকাল ধরে মুগ্ধ করে রেখেছে। এর গভীরতা, বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এবং এটি খেলার জন্য অসাধারণ মানসিক শক্তির প্রয়োজন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, ডিজিটাল কন্টেন্ট, স্পনসরশিপ এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দাবাকে একটি প্রথাগত বোর্ড গেম থেকে বিশ্বমানের ক্রীড়া পণ্যে রূপান্তরের যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চলছে, তারই অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগটি করা হয়েছে।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও ‘আমেরিকান গ্যাম্বিটস’-এর একজন অংশীদার। নরওয়ের একাধিক অলিম্পিক ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং চ্যাম্পিয়ন জোহানেস হোসফ্লট ক্লাবো এবং হালান্ডও এ বছর ‘নরওয়ে চেস’ এবং ‘টোটাল চেস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ বিনিয়োগ করেছেন। উল্লেখ্য, এই চ্যাম্পিয়নশিপটি আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা(ফিডে)-র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়।
ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার হালান্ডকে এই প্রকল্পে যুক্ত করতে সহায়তা করা নরওয়েজিয়ান বিনিয়োগকারী মর্টেন বোর্গে রয়টার্সকে বলেন, এর মধ্যে অনেক আকর্ষণীয় মিল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাঠের মধ্যে হাল্যান্ডকে হয়তো শারীরিক শক্তির এক দানব বলে মনে হতে পারে, কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে প্রস্তুতি, কৌশল, সঠিক সময়জ্ঞান এবং ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্তগুলো বোঝার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে দাবা খেলার সঙ্গে এর মিল রয়েছে।
বোর্গে জানান, খেলার কৌশলগত চিন্তাভাবনার ওপর গুরুত্ব এবং চাপের মুখে ভালো খেলার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শৃঙ্খলার বিষয়টি হালান্ডকে আকৃষ্ট করেছিল। ক্রীড়াজগতে এমন অনেক ক্রীড়াবিদই এখন মনোযোগ বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্যাটার্ন বা বিন্যাস শনাক্ত করার দক্ষতা বাড়াতে দাবাকে ব্যবহার করছেন, যা একটি বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিফলন।
ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা ফুটবল নিয়ে আলোচনার সময় প্রায়ই দাবা ও কৌশলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ এবং টেনিস কিংবদন্তি বরিস বেকার ও নোভাক জোকোভিচসহ বিভিন্ন খেলার অনেক তারকা খেলোয়াড়ই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তারা দাবাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও দাবা খেলার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুঁজে পাচ্ছেন।
ভারতীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘টেক মাহিন্দ্রা’ এবং ‘ফিডে’-র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘গ্লোবাল চেস লিগ’ টেলিভিশন ও ডিজিটাল দর্শকদের উপযোগী সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট চালুর মাধ্যমে এই খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বোর্গে মনে করেন, দাবা খেলাটি এমন কিছু বিশেষ ঘরানার খেলার পথই অনুসরণ করছে, যারা সফলভাবে তাদের প্রথাগত ভক্তগোষ্ঠীর গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের পরিসর বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিতব্য জিসিএল-এর চতুর্থ আসরে ‘আমেরিকান গ্যাম্বিটস’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
