অনলাইন ভার্সন বিশ্বজুড়ে আরও বাড়তে পারে খাদ্যপণ্যের দাম: গবেষণা
অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত যুদ্ধ আর ইউরোপজুড়ে দেখা দেওয়া তীব্র দাবদাহের জোড়া ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে আবারও লাফিয়ে বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম। বিশেষ করে গম উৎপাদনের ওপর চরম সংকট তৈরি হওয়ায় আটা, পাউরুটি ও পাস্তার মতো নিত্যদিনের খাবার কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে এবার বেশ চড়া মাশুল গুনতে হতে পারে। গবেষণা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। তাদের তথ্য মতে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ১১.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার প্রভাব থাকবে আগামী ২০২৭ সালেও।
মূলত চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে এবারের খাদ্য উৎপাদনে। গত কয়েক মাসের তীব্র তাপদাহ ও খরা ইউরোপজুড়ে কৃষিশস্যের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। বেলজিয়ামভিত্তিক শস্য ও তেলবীজ বাণিজ্য সমিতি ‘কোকেরাল’ ইতিমধ্যেই তাদের খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বানুমান অনেক কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে জার্মানির মতো শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোতেও শস্য উৎপাদন সাত শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ চাষীদের উৎপাদন খরচকে রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের মাধ্যমে শস্য রফতানিতে তৈরি হওয়া নতুন বাধা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক গম রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে রাশিয়া ও ইউক্রেন। ফলে বন্দর ও জাহাজে হামলার মতো ঘটনা বিশ্বের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। সারনির্ভর ফসল হওয়ায় এবার গমের দাম প্রায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। গমের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে, যার চূড়ান্ত শিকার হবেন সাধারণ ভোক্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শস্য ও মূল্যের এই অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির প্রভাব ধাপে ধাপে খুচরা বাজারে আসবে। ফলমূল ও সবজির মতো পচনশীল কাঁচা পণ্যের বাজারে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই উচ্চমূল্যের আঁচ পাওয়া যাবে। তবে পাউরুটি, বিস্কুট ও পাস্তার মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রভাব পড়তে হয়তো আরও ছয় থেকে নয় মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে আগামী বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদির দোকানের খরচের ওপর নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
সূত্র: ইউরোনিউজ
