ছোট পোকা কোটি কোটি গাছ ধ্বংস করছে!
অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবস শহরটি প্রায় ৩৫০ বছর ধরে ‘সিটি অব ওকস’ (ওক গাছের শহর) হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই পরিচয় এখন হুমকির মুখে। কারণ, তিলের আকারের একটি ছোট পোকা—‘পলিফ্যাগাস শট-হোল বোরার’—শহরের হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী ওক গাছ ধ্বংস করে দিয়েছে। কেবল দক্ষিণ আফ্রিকাতেই নয়, বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশেই (অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া) ছড়িয়ে পড়েছে এই ক্ষতিকর পোকাটি। এর কারণে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উৎপত্তি হওয়া এই পোকাটি কাঠ ও উদ্ভিদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত এটি প্রায় ৬৮০ প্রজাতির গাছ আক্রমণ করেছে। স্টেলেনবস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রাঁসোয়া রোয়েটস এই পোকাকে ‘নিখুঁত আক্রমণকারী’ বলে অভিহিত করেছেন।
এই পোকাটি নিজে গাছের খুব একটা ক্ষতি করে না, কিন্তু এরা গাছের ভেতরে ঢোকার সময় একধরনের ছত্রাক বহন করে নিয়ে যায়। পোকাটি গাছের ছালের নিচে ডিম পাড়ার জন্য গর্ত (বোর) করে এবং সেখানে ছত্রাকটি জন্ম নেয়। এই ছত্রাক গাছের খাদ্য ও পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়, ফলে গাছটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যায়। ওক গাছের মতো বড় গাছ চার বছরের মধ্যে এবং ছোট গাছ এক বছরের মধ্যেই মারা যেতে পারে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই পোকাটির বংশবৃদ্ধির জন্য কোনো পুরুষ পোকার প্রয়োজন হয় না। একটি স্ত্রী পোকা একাই নতুন কলোনি তৈরি করতে পারে। একবার কোনো গাছে এরা বাসা বাঁধলে, পুরো গাছটি কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। দক্ষিণ আফ্রিকাতেই প্রায় ৬৫ মিলিয়ন গাছ এই পোকার কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যা পরিষ্কার করতে দশ বছরে প্রায় ১৮.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এই পোকা দমনে বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে রাসায়নিক কীটনাশক খুব একটা কাজে আসছে না, কারণ গাছের ভেতরের ছত্রাক কীটনাশককে পোকা পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না। তাই বিজ্ঞানীরা এখন পোকা খেকো বোলতা বা আণুবীক্ষণিক কৃমির (নেমাটোড) মতো প্রাকৃতিক উপায়ের কথা ভাবছেন। তবে গবেষণাগার থেকে মাঠে এসব প্রয়োগ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ।
স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার মতো দেশেও এখন এই পোকার উপদ্রব বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের। এই ক্ষুদ্র কিন্তু ভয়ংকর পোকার আক্রমণ কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটাই এখন বিশ্বের পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
