বৃষ্টি কিংবা জোয়ারে তলিয়ে যায় গরুর হাট, ভোগান্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
সামান্য বৃষ্টি কিংবা নদীর পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের নমরহাট গরুর বাজার। হাঁটুপানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয় গবাদিপশু। এর মধ্যেই গরু দেখছেন ক্রেতারা, চলছে দরদাম। এতে ব্যাহত হচ্ছে বেচাকেনা। পাশাপাশি গরু ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ধানখালী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই গরুর হাটে পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও গরু নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। নদীর পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
হাট ইজারাদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে বাজারটি। বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানি ঢুকে হাট তলিয়ে যাওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি গবাদিপশুগুলোকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বাজারটির দুরবস্থা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, দ্রুত বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।
গরু বিক্রেতা জসিম আকন বলেন, ‘বাজারের এমন দুরবস্থার কারণে গরু নিয়ে আসার পর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়ে। পানির মধ্যে গরু রাখায় পশুগুলোর যেমন ভোগান্তি হচ্ছে, তেমনি ক্রেতা-বিক্রেতারাও দুর্ভোগে পড়ছেন। এতে বেচাকেনাও অনেকটা কমে গেছে।’
হাট ইজারাদার রুহুল আমিন গাজী বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিডরের প্রভাবে বাজারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়নি। বাজারটি নিচু জায়গায় হওয়ায় বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানি ঢুকে প্রায়ই জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বাজারের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই একই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে হাটে আসা মানুষ ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘নমরহাটের গরুর বাজারটি আমি পরিদর্শন করে দেখব। গরু কেনাবেচার জন্য যাতে কাউকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
