ওয়াসিম আকরামের ছায়া: অস্ট্রেলিয়ায় ৩৩ বছর পর ৭ উইকেট, শরিফুলের অনন্য কীর্তি

অনলাইন ডেস্ক

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং যখন দলকে বড় বিপদে ফেলেছে, তখন বল হাতে আশার আলো দেখিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরে প্রথম ইনিংসেই ৭ উইকেট নিয়ে শুধু অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেননি, গড়েছেন একাধিক রেকর্ডও। তার বোলিংয়ে দেখা গেছে নব্বইয়ের দশকের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামের ছায়াও।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরানো শরিফুলের ডেলিভারিটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। ইয়র্কার লেন্থে পড়া বলটি শেষদিকে সুইং করে গ্রিনের বুটের ডগায় আঘাত করে। বাংলাদেশের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি গ্রিনের বুটে আঘাত করেছে এবং তা মিডল স্টাম্পে আঘাত করত।

সেই দুর্দান্ত ডেলিভারির প্রশংসা করে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ব্রেন্ডন জুলিয়ান বলেন, বলটি যেন নব্বইয়ের দশকের ওয়াসিম আকরামের ডেলিভারির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

গ্রিনকে ফেরানোর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন শরিফুল। বিদেশের মাটিতে টেস্টে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলারও তিনি।

শুধু তাই নয়, গত ৩৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া কোনো বিদেশি বোলার ছিলেন না। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে এই কীর্তি গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কার্টলি অ্যামব্রোস। এরপর ৩৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই কীর্তি ফিরল শরিফুলের হাত ধরে।

দেশের বাইরে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এতদিন টেস্টে সেরা বোলিং ফিগার ছিল তাইজুল ইসলামের। দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। শরিফুলের ৪৮ রানে ৭ উইকেট সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল। লাল বলের ক্রিকেটে এর আগে কোনো বাংলাদেশি পেসারের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল না। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শাহাদাত হোসেন রাজিব ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদ নিয়েছিলেন ৫৫ রানে ৬ উইকেট।

এবার তাদের ছাড়িয়ে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি পেসারদের সেরা বোলিং ফিগার গড়েছেন শরিফুল।

তবে টেস্টে সব মিলিয়ে বাংলাদেশি বোলারদের সেরা বোলিং ফিগার এখনো তাইজুল ইসলামের। ২০১৪ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এর ছয় বছর আগে ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। সেই তালিকায় তৃতীয় স্থানে এখন শরিফুল ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে শরিফুলের এই বোলিং তাই বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যাটিং ব্যর্থতার পর তার ৭ উইকেটেই ম্যাচে টিকে থাকার পথ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights