বড় চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্রের মির্জা ফখরুল হয়ে ওঠা

জিল্লুর রহমান

একটি দেশের রাজনীতি বোঝার জন্য শুধু সংসদের দিকে তাকালে চলে না। কখনো বঙ্গভবনের দিকে, কখনো আন্তর্জাতিক কূটনীতির মানচিত্রে, কখনো সকালের বাজারের থলের দিকে তাকাতে হয়। আবার কখনো নিজের পেছনেও তাকাতে হয়-কে পাশে ছিল, কে হাত ধরেছিল, আর সাফল্যের আলো জ্বলে ওঠার পর কাদের আমরা ভুলে গেছি। এই সপ্তাহে বাংলাদেশের সামনে এমন চারটি ছবি পাশাপাশি এসেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদেশি বিনিয়োগের আশার পাশে বাজারদর, গ্যাস সংকট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সাধারণ মানুষকে চাপে রাখছে। আর এসবের মধ্যেই ফিরে আসে একটি পুরোনো প্রশ্ন-ক্ষমতা ও সাফল্যের পর মানুষ কী তার অতীতকে মনে রাখে?

আপাতদৃষ্টিতে চারটি বিষয় আলাদা। কিন্তু একটু গভীরে গেলে দেখা যায়, প্রতিটির কেন্দ্রে একটি সাধারণ প্রশ্ন আছে-ক্ষমতা পাওয়ার পর আমরা কতটা দায়িত্বশীল, সুযোগ পাওয়ার পর কতটা বিচক্ষণ, উন্নয়নের কথা বলার সময় কতটা বাস্তববাদী, আর সফল হওয়ার পর কতটা কৃতজ্ঞ?

১. প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরল, এখন মর্যাদা ফিরুক

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর যাত্রাও শুরু করেছেন। সংসদীয় ভোটে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ১৯৯১ সালের পর এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ফল নিয়ে অবশ্য খুব বেশি রহস্য ছিল না। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং আমাদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাস্তবতায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, কিন্তু অনিশ্চয়তা ছিল না। তারপরও এই নির্বাচনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজেই একটি মূল্য। বহু বছর ধরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সংস্কৃতির পর অন্তত ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হওয়া একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে আসল পরীক্ষা এখন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম তুলনামূলক সংযত ভাষা, ভদ্রতা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যেও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার একটি জায়গা তৈরি করেছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় মির্জা ফখরুল থেকে রাষ্ট্রের মির্জা ফখরুল হয়ে ওঠা। বঙ্গভবন কোনো রাজনৈতিক দলের বর্ধিত কার্যালয় নয়। রাষ্ট্রপতির পদও প্রবীণ রাজনীতিকদের সম্মানজনক অবসরকেন্দ্র হওয়া উচিত নয়। আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু সংবিধানের অনেক পদই দৈনন্দিন সময়ে ছোট মনে হয়, সংকটের সময়ে তার গুরুত্ব বোঝা যায়। রাজনৈতিক অচলাবস্থা, নির্বাচন নিয়ে বিরোধ, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অথবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে টানাপড়েন দেখা দিলে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিত্ব, নিরপেক্ষতা ও বিচক্ষণতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

একজন রাষ্ট্রপতির সাফল্য তাই কতগুলো ফিতা কাটলেন, কতটি সংবর্ধনায় গেলেন অথবা কতজন বিদেশি অতিথিকে গ্রহণ করলেন-সেটি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং তিনি কী দল ও রাষ্ট্রের সীমারেখা বুঝতে পেরেছেন, বিরোধী মতের মানুষের কাছেও আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন, সেটাই বড় কথা। মির্জা ফখরুলের সামনে একটি বিরল সুযোগ আছে, রাষ্ট্রপতির পদটিকে আবার কিছুটা হলেও নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব দেওয়ার। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরেছে। এবার রাষ্ট্রপতির প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ফিরুক।

২. মক্কার চুক্তি : বন্ধুত্ব হোক, বাঁধন নয়রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সম্ভাব্য অংশগ্রহণের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। বলা হচ্ছে, জাতীয় স্বার্থ বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সৌদি আরব আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। লাখ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সেখানে। প্রবাসী আয়, হজ, ওমরা, বিনিয়োগ-সব মিলিয়ে সম্পর্কটি গভীর। তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। পাকিস্তানের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের দূরত্ব কিছুটা কমছে। এসব স্বাভাবিক। কিন্তু বন্ধুত্ব আর সামরিক জোট এক জিনিস নয়।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ বলে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়া যেমন পররাষ্ট্রনীতি নয়, তেমনি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করলে ভারত কী ভাববে-এই ভয়েও বসে থাকা কূটনীতি নয়। পররাষ্ট্রনীতি প্রেম, রাগ বা অভিমান দিয়ে চলে না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী, চীন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার, যুক্তরাষ্ট্র বড় বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদার, জাপান উন্নয়ন সহযোগিতার বড় ভিত্তি, ইউরোপ প্রধান রপ্তানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্য শ্রমবাজার ও জ্বালানির জন্য অপরিহার্য। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের শক্তি কোনো একটি শিবিরে ঢুকে পড়া নয়। বরং সবার সঙ্গে কাজ করার স্বাধীনতা ধরে রাখা। একসময় আমরা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’কে কেবল স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করেছি। এখন সেটিকে আরও পরিণত অর্থে দেখতে হবে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব মানে সবার সব প্রস্তাবে সম্মতি নয়। প্রকৃত কৌশলগত স্বাধীনতা হলো- যেখানে লাভ আছে সেখানে সহযোগিতা, যেখানে ঝুঁকি আছে সেখানে সতর্কতা এবং যেখানে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেখানে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলার ক্ষমতা।

আজ কাউকে বার্তা দেওয়ার জন্য কোনো প্রতিরক্ষা জোটে প্রবেশ করলাম, কাল সেই জোটের কোনো সদস্য অন্য কারও সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে আমাদের অবস্থান কী হবে? যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকারের আইনি, সামরিক ও কূটনৈতিক মূল্য কতটা-তা পরিষ্কার না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক। আর কোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোয় প্রবেশের আগে প্রশ্ন করতে হবে-এর মাধ্যমে আমরা কী পাচ্ছি? প্রযুক্তি? প্রশিক্ষণ? গোয়েন্দা সহযোগিতা? প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা? নাকি এমন কিছু দায় নিচ্ছি, যার মূল্য ভবিষ্যতে অনেক বেশি হতে পারে?

বাংলাদেশের দরজা খোলা থাকতে পারে। কিন্তু দরজার বাইরে কী আছে, সেটা দেখে তারপর পা বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। কূটনীতির সবচেয়ে বড় ভুল হয় তখনই, যখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল তাৎক্ষণিক অভিমানের প্রতিক্রিয়ায় পরিণত হয়।

৩. উড়োজাহাজ বাড়ে, বাজারের থলে হালকা হয়

সৌদি আরবের সঙ্গে সপ্তাহে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ করার সিদ্ধান্ত ভালো খবর। হজযাত্রী, প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি স্বস্তির। কিন্তু একই সপ্তাহে বাজারে গেলে সেই সুখবরের উজ্জ্বলতা কমে যায়। ডিম, মাছ, মুরগি, সবজি, আটা, চিনি-প্রায় সবকিছুর দামই মানুষের আয়কে চ্যালেঞ্জ করছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও বাজারদরকে প্রভাবিত করছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য প্রতিদিনের হিসাব কঠিন হয়ে উঠছে।

রাজনীতির একটি মজার ব্যাপার আছে। সংসদে ২৫৫ আর ৮৮ নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করি, কিন্তু একজন মানুষ সকালে বাজারে যে হিসাব করেন, সেটাই সরকারের জন্য শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন আসে কয়েক বছর পর, বাজার আসে প্রতিদিন। এর পাশে আরেকটি ছবি আছে। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি ইতিবাচক। কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীরাই বলছেন, গ্যাসসংকট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা। একজন বিদেশি বিনিয়োগকারীকে দশ দপ্তরে ঘুরতে হলে, কারখানা তৈরির পর গ্যাস না পেলে, কিংবা নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে-বড় বৈঠক শেষ পর্যন্ত ছবিতেই থেকে যাবে। আমাদের দেশে বিনিয়োগ সম্মেলনের অভাব নেই, বিনিয়োগকারীর অভিজ্ঞতা ভালো করার অভাব আছে। প্রায়ই আমরা লালগালিচা বিছাই, কিন্তু তার শেষ মাথায় গিয়ে বিনিয়োগকারীকে লালফিতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিই। বিদেশি বিনিয়োগকারীকে শুধু বক্তৃতার আলো দিলে চলবে না; কারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

একটি দেশের কূটনৈতিক শক্তিও তার অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রতিরক্ষা চুক্তি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হলে শিল্পে গ্যাসের নিশ্চয়তাও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। কর্মসংস্থানও নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও নিরাপত্তা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাও নিরাপত্তা। রাষ্ট্রের বড় বড় সাফল্যের গল্প সাধারণ মানুষের কাছে তখনই বিশ্বাসযোগ্য হয়, যখন বাজার থেকে ফেরার সময় তার ব্যাগে আগের তুলনায় কম জিনিস থাকে না। অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। অর্থনীতি মানুষের রান্নাঘরের বিষয়।

৪. সাফল্যের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা-স্মৃতি

এই সপ্তাহের শেষ বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ নয়। কিন্তু সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস বিজয়ের কথা বলে। প্রজ্ঞা মনে রাখে সেই বিজয়ের পেছনের ত্যাগ। আমরা সাধারণত সফল মানুষটির ছবিই দেখি। আলো তাঁর ওপর পড়ে, করতালি তাঁর জন্য হয়। কিন্তু তাঁর পেছনে কতজন মানুষ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে ছিল, তাঁদের নাম আমরা খুব কমই জানি। প্রত্যেক সফল মানুষের জীবনে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা কোনো প্রতিদান না চেয়েই পাশে দাঁড়িয়েছেন-শিক্ষক, বন্ধু, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো কর্মী। সাফল্যের একটি অদ্ভুত রোগ আছে-স্মৃতিভ্রংশ। অনেকে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে সিঁড়িটাকেই ভুলে যান। কেউ কেউ আবার লাথিও মারেন। ‘আমি একাই করেছি,’ এটি সাফল্যের অহংকার। আর ‘আমি একা পারতাম না,’ এটি সাফল্যের প্রজ্ঞা। রাজনীতিতেও একই কথা সত্য।

একজন নেতা তৈরি হন হাজার মানুষের শ্রমে। একটি দল ক্ষমতায় আসে অসংখ্য কর্মীর ত্যাগে। একটি আন্দোলন সফল হয় বহু নামহীন মানুষের সাহসে। তারপর ক্ষমতা আসে, গাড়ির বহর বড় হয়, নিরাপত্তার বলয় বাড়ে, পুরোনো ফোন নম্বরগুলো ধীরে ধীরে অচেনা হয়ে যায়। সেখানেই চরিত্রের পরীক্ষা। আমরা ক্ষমতাবানদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি, তা দিয়ে চরিত্র পুরো বোঝা যায় না। কারণ ক্ষমতাবানকে সম্মান করার পেছনে স্বার্থও থাকতে পারে। চরিত্র বোঝা যায় আমরা সেই মানুষটির সঙ্গে কেমন আচরণ করি, যার কাছ থেকে আর কিছু পাওয়ার নেই।

যিনি একসময় দরজা খুলে দিয়েছিলেন, আজ তাঁর দরজায় আমরা দাঁড়াই কি না, সাফল্যের বড় পরীক্ষা সম্ভবত সেটিই। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই সত্য। পরিবর্তনের জন্য যাঁরা ত্যাগ করেছেন, তাঁদের স্মরণ শুধু বক্তৃতায় নয়-আইনের শাসন, ভিন্নমতের অধিকার, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকের মর্যাদার মধ্য দিয়ে হতে হবে। স্মৃতি যদি শুধু সুবিধাজনক মানুষ আর সুবিধাজনক ইতিহাসকে মনে রাখে, তাহলে সেটি স্মৃতি নয়-রাজনীতি। সাফল্যের এক পর্যায়ে প্রশ্ন আর থাকে না, আপনি কত দূর উঠেছেন। প্রশ্ন হয়, উঠতে গিয়ে কাদের ভুলে যাননি।

শেষ কথা : এই সপ্তাহের চারটি বিষয় আসলে একটি কথাই বলে। রাষ্ট্রপতিকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে হয়। পররাষ্ট্রনীতিকে রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে উঠতে হয়। অর্থনীতিকে সম্মেলন ও ঘোষণার বাইরে মানুষের রান্নাঘরে পৌঁছাতে হয়। আর সফল মানুষকে নিজের অহংকারের ঊর্ধ্বে উঠে পেছনের মানুষগুলোকে মনে রাখতে হয়। ক্ষমতার চেয়ার বদলায়। কূটনৈতিক জোট বদলায়। বাজারদর ওঠে-নামে। সাফল্যের আলোও একদিন অন্য কারও ওপর পড়ে। শেষ পর্যন্ত থেকে যায় প্রতিষ্ঠান, সম্পর্ক, চরিত্র আর স্মৃতি। একটি দেশ তখনই সত্যিকার অর্থে বড় হয়, যখন তার স্মৃতি ক্ষমতার চেয়ে দীর্ঘ, তার বিবেচনা আবেগের চেয়ে গভীর, আর নাগরিকের বাজারের থলে রাষ্ট্রের ভাষণের চেয়ে ভারী হয়।

লেখক : প্রেসিডেন্ট, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights