তবু ঘুরে দাঁড়াতে আত্মপ্রত্যয়ী

অনলাইন ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ছিলেন চরমভাবে অবহেলিত। উল্টো এমন সব নীতি-কৌশল করা হয়, যার ফলে ব্যবসা-বিনিয়োগ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। আস্থাহীনতা চরমে পৌঁছে। অন্য সবার মতো তারই প্রভাব পড়ে বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকল্পেও।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার’ নীতির আড়ালে বড় বড় শিল্পগ্রুপকে অচল করে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়।

এই বৈষম্যমূলক নীতির বেড়াজালে পড়ে বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজও শুরুর আগেই থমকে যায়। প্রায় ১৩ মাসের ভুল নীতির বলি হওয়া এই উদ্যোগটি বিএনপি সরকার আসার পর ওই নীতিটি বাতিল করে।

এখন অনেকটা ‘টানেলের শেষ প্রান্তে আলো দেখার’ মতো এই উদ্যোগের জেগে ওঠার নতুন মিশন শুরু হয়েছে। একে একে বন্দর থেকে ২৭৫ কনটেইনারে বাক্সবন্দি যন্ত্রপাতি খালাসের প্রক্রিয়া চলছে। অন্য সব প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। বন্ধ, স্তব্ধ কারখানায় প্রাণের স্পন্দন দেখা যাচ্ছে।

কঠিন মনোবলে অনেকটা ‘ফিনিক্স পাখির’ মতো ছাইভস্ম থেকে অর্থনীতির এক অপার শক্তি হয়ে ওঠার গল্প বুনছে বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। যেসব ব্যাংক এই উদ্যোগে অর্থায়ন করেছে এবং করার জন্য এগিয়ে রয়েছে, তারাই নতুন সরকারের বিনিয়োগবান্ধব মনোভাব ও ‘স্পিরিটের’ সঙ্গে একাত্ম হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মিশনে বসুন্ধরা মাল্টি স্টিলের সহযোগী হয়ে কাজ করছে।

ব্যাংকও অন্তর্বর্তী সরকারের অদৃশ্য ‘ইশারার’ সব অন্ধকার অতীত ভুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে সুর মিলিয়ে অর্থনীতির শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।

জানা যায়, সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল (এসবিজি) বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ গ্রুপ হিসেবে বিপুল সংখক মানুষের কর্মসংস্থান, বিপুল আমদানি-রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রেখে চলেছে। গ্রুপটির অসংখ্য ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রম দেশের মানুষের কল্যাণে। সরকারও এর কাছ থেকে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব পাচ্ছে, যা দেশকে সমৃদ্ধ করছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে হয়তো ১৮ মাসের একটি অমানিশা পার করেছে বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজও। কিন্তু এটিসহ সব উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক কর্মপ্রচেষ্টার মধ্যে অপরিসীম উদ্যম, প্রাণশক্তি ও সাহসী মনোভাব সব সময়ই এর অমূল্য সম্পদ হিসেবে ছিল, এখনো আছে।

সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ সব বাধা পেরিয়ে ভুল নীতির ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তাকে সামনে থেকে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা, সরকারের সহযোগিতা ও ব্যবসাবান্ধব মনোভাবে বলীয়ান হয়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক ব্যবস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করার সব প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মনে করেন, সবার আগে দেশ। তাই সব বাধা উপেক্ষা করে দেশের স্বার্থেই আরো দ্বিগুণ শক্তিতে এগিয়ে যাবে প্রকল্পটি। সব ক্ষত কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে নতুন উদ্যমে— এটিই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights