চ্যালেঞ্জ এবার দক্ষিণ আফ্রিকা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ডারউইন টেস্ট জিতে ক্রিকেট বিশ্বের সব ফোকাস কেড়ে নেয় বাংলাদেশ। আলোচনার টেবিলে ঝড় ওঠান হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম, নাজমুল শান্ত, মেহেদি মিরাজরা। টাইগার ক্রিকেটারদের নিয়ে আলাদা করে ভাবতে শুরু করে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো। আত্মবিশ্বাসী নাজমুল বাহিনী অপরাপর দলগুলোকে একটি মেসেজ দেন, বিশ্বের যে কোনো কন্ডিশনে খেলতে প্রস্তুত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। যদিও ম্যাকেইর সবুজ ঘাসের উইকেটে ব্যর্থ হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। হারলেও আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিত নাড়িয়ে দেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ড্র হয়েছে সিরিজ। ব্যাটাররা ডারউইনে ভালো করলেও উভয় টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করেন পেসাররা। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১০ উইকেট নেন টাইগার তিন পেসার। সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করেন টাইগার পেসাররা। তাসকিনদের সাবেক কোচ শন টেইট সরলভাবে স্বীকার করেছেন এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগ বিশ্বের অন্যতম সেরা। এই বোলিং বিভাগ নিয়েই বাংলাদেশের পরবর্তী মিশন দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য তাসকিন, হাসান, শরিফুল, ইবাদতদের সঙ্গে ফিরবেন ‘স্পিডস্টার’ নাহিদ রানা।
নভেম্বরে আফ্রিকা সফরে জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়ানে দুটি টেস্ট খেলবে টাইগাররা। এবার নিয়ে পঞ্চমবার টেস্ট সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাবে বাংলাদেশ। সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচও খেলবেন লিটন দাসরা। ভারত মহাসাগর তীরবর্তী দেশটিতে বাংলাদেশকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেন ‘মি. ৩৬০ ডিগ্রি’ ক্রিকেটার-খ্যাত এ বি ডি ভিলিয়ার্স। তবে নাজমুলদের ভালো করার সুযোগও দেখছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক, ‘আমার মনে হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই করবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন উইকেটগুলোর একটি। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের কঠিন লড়াই করতে হয়। বল শুধু সুইং করে না, সিমেও মুভ করে। পিচে পড়ার পর মুভ করে। বিশ্বের খুব বেশি খেলোয়াড় এতে অভ্যস্ত নয়। তাদের মুখোমুখি হওয়াটা তাই খুব কঠিন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।’ সফরে প্রথম টেস্ট জোহানেসবার্গে ১৫-১৯ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানে ১৩-২৭ নভেম্বর। প্রথম ওয়ানডে ১ ডিসেম্বর কুমুবপো, দ্বিতীয় ওয়ানডে ৪ ডিসেম্বর জিকেবেরহা ও তৃতীয় ওয়ানডে ৭ ডিসেম্বর কেপটাউনে। ১০ ডিসেম্বর কিম্বারলি প্রথম টি-২০, বেনোনিতে ১২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় টি-২০ এবং তৃতীয় টি-২০ সেঞ্চুরিয়ানে ১৩ ডিসেম্বর।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে ২৭ আগস্ট দেশে ফিরবেন নাজমুলরা। ক্রিকেটাররা এখনো ম্যাকেইতে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার পর আপাতত কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ নেই। সেপ্টেম্বরে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু বাংলাদেশ সফরে আসছে না দেশটি। টাইগারদের পরবর্তী মিশন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সেখানে কঠিন কন্ডিশনে সাফল্য পেতে টাইগার ব্যাটারদের কী করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কিছু কৌশল আছে। কখনো ক্রিজ থেকে বের হয়ে এসেছি, কখনো বা স্ট্যাম্প ঢেকে ব্যাট করেছি। আবার কখনো স্ট্যাম্প ছেড়ে দাঁড়িয়েছি। কন্ডিশনটা কেমন মনে হচ্ছে, তাঁর ওপর এসব নির্ভর করে। সিমিং কন্ডিশনে ব্যাটিংয়ের সময় এগুলোই করতে হবে। সারা দিন শুধু একটি স্ট্যাম্পের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। ইতিবাচক হতে হয়।’ এজন্য টাইগার ব্যাটারদের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখেন না ডি ভিলিয়ার্স, ‘হুট করে বৈচিত্র্যপূর্ণ শটও খেলতে হবে না। ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ দলের প্রতি শুভকামনা। সাফল্য পেতে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সিমিং ও বাউন্সি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৬ টেস্ট খেলে ১৪টি হেরেছে। ৯টি হার ইনিংস ব্যবধানে, ৩টি রানে ও ২টি উইকেটে এবং ২টি ড্র করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ৮ টেস্টের সবই হেরেছে।
