ইয়েমেনে ফের সংঘাতের উত্তাপ, হুথিদের ঘাঁটিতে সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহত ১৪
অনলাইন ডেস্ক
ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী হোদেইদার দক্ষিণাঞ্চলে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস (এনআরএফ)। এতে হুথি গোষ্ঠীর ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এনআরএফ জানায়, হোদেইদার দক্ষিণে হুথিদের কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো হামলায় নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এতে ১৪ হুথি যোদ্ধা নিহত হন। তবে এসব দাবির বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে, মঙ্গলবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) হুথিদের বিরুদ্ধে আরও ‘প্রতিরোধমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দেয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের বৈঠকে সামরিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং হুথিদের বিরুদ্ধে সরকারের পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
কাউন্সিল বলেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, দেশের পুরো ভূখণ্ডে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং হুথিদের নিয়ন্ত্রণের কারণে সৃষ্ট মানবিক দুর্ভোগ অবসানে সরকার তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে সরকারপন্থী বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে আবারও সংঘাত বেড়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও গত কয়েক সপ্তাহে মারিব, আল-জাওফ, আল-দালেয়া ও তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই নতুন করে শুরু হয়েছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা ও দেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা। এর পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পুনরুত্থানে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পূর্ণমাত্রার লড়াই শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুথিরা ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাসহ আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এদিকে, গত সোমবার ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী আদেনের পশ্চিমে হুথিদের কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। এর এক দিন পরই হোদেইদায় হুথিদের অবস্থানে ১৪ সদস্য নিহত হওয়ার দাবি সামনে এলো।
