রাজধানীতে অনলাইন জুয়া সাইটের ‘সুপার এজেন্ট’ গ্রেফতার
রাজধানীর শাহজাহানপুরে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন ও ‘সুপার এজেন্ট’ মো. অহিদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৩।
বুধবার সকালে র্যাব-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে র্যাব বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইন বেটিংয়ে আকৃষ্ট করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন করে আসছিলেন অহিদুর। তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, নগদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র্যাব-৩-এর একটি দল শাহজাহানপুর থানাধীন ২০ আউটার সার্কুলার রোডের রাজারবাগ এলাকায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সামনে অভিযান চালিয়ে অহিদুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, বিকাশ অ্যাপে ৮১ হাজার ২১৪ টাকা, নগদ অ্যাপে ৫০ হাজার ৪১ টাকা, দুটি ব্যক্তিগত সিমকার্ড, নগদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, অহিদুর রহমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটে সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে আসছিলেন।
তার মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে জুয়া ও বেটিং সাইটের প্রচার এবং অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই চক্রের একজন ‘সুপার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে অহিদুর আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন সদস্য জড়িত। অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে অর্জিত অর্থ দিয়ে চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, গাড়িসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
র্যাব জানায়, চক্রটির সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করতেন। পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়ে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছদ্ম নামে অ্যাকাউন্ট খুলে জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন তারা। এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র্যাব-৩ এর এই কর্মকর্তা জানান, অহিদুরের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
