তেলেগু অভিনেতা নারায়ণ রাওয়ের মৃত্যু
শোবিজ ডেস্ক
ভারতের হায়দরাবাদে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তেলেগু চলচ্চিত্রের প্রবীণ ও গুণী অভিনেতা জিভি নারায়ণ রাও। বুধবার রাতে ৭৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন সহশিল্পী ও অভিনেত্রী কারাতে কল্যাণী।
গুণী এই অভিনেতার প্রয়াণে তেলেগু চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হায়দরাবাদের বৈকুণ্ঠ মহাপ্রস্থান শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
কে বালচন্দরের ১৯৭৬ সালের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আন্তুলেনি কথা’ দিয়ে সেলুলয়েডের জগতে পা রেখেছিলেন জিভি নারায়ণ রাও। সূচনাতেই নিজের অভিনয়নৈপুণ্য দেখিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অন্তত ১০০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তেলেগু সিনেমাজগতে এক অনন্য স্থান তৈরি করে নেন। মুখ্য অভিনেতা হিসেবে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ১৯৭৭ সালের ‘ওকা উরি কথা’, ১৯৮১ সালের ‘উ রুকিচ্ছিনা মাটা’ এবং ১৯৮২ সালের ‘মঞ্চু পাল্লাকি’।
প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি বহু ব্যবসায়িক সফল চলচ্চিত্রেও তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। ‘চিলকমা চেপ্পিন্দি’, ‘মুথিয়ালা পাল্লাকি’র পাশাপাশি চিরঞ্জীবী অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘গ্যাং লিডার’ ও ‘হিটলার’-এ তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। কর্মজীবনে তিনি চিরঞ্জীবী ও রজনীকান্তের মতো দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভিনয় করেছেন।
অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও সফলতার পেয়েছেন। ১৯৮১ সালে ‘চেত্তানিকি কাল্লু লেভু’, ১৯৮৪ সালে ‘দেবাস্তকুদু’ এবং ১৯৮৮ সালে সাড়া জাগানো ‘যমুদিকি মগুডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমাগুলো তার প্রযোজনায় নির্মিত হয়।
কেবল রুপালি পর্দাতেই নয়, ছোট পর্দাতেও জিভি নারায়ণ রাও ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ। ‘পাসুপু কুমকুমা’ এবং ‘সুন্দরকাণ্ড’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি সাধারণ দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
