কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিষ্ঠান নিজেই ‘বেকার’
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
কুমিল্লার লালমাইতে অবস্থিত লালমাই আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এ সুরম্য ভবন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ভবন নির্মাণের পর রূপসজ্জা করা হয়েছিল। কিন্তু আসল যে কাজ অর্থাৎ কার্যক্রম, সেটিই শুরু করা হয়নি। তিন বছর পর এটি পরিত্যক্ত ভবনে রূপ নিচ্ছে। স্থানীয় মানুষের মন্তব্য, কর্মসংস্থান তৈরির ঝলমলে প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজেই বেকার। তাদের দাবি এটি চালু করে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হোক।
আইটি সেন্টার ও স্থানীয় সূত্রমতে, লালমাই আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারটি ৫ একর ভূমির ওপর নির্মিত। কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। মূল ভবন ও অবকাঠামোগত নির্মাণ সমাপ্ত হয় ২০২৩ সালের শেষ দিকে। ওই সময়ে সেন্টারটি উদ্বোধন করা হয়। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীনে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর এখানে ৩ হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গত তিন বছরেও সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিকে সেখানের আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। দেখভাল না থাকায় ভবনের সিঁড়িতে পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা লালমাই বাজারের দক্ষিণ মাথায় তিন রাস্তার মোড়। একটি কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। অন্যটি কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বামপাশে গড়ে উঠেছে সুরম্য আইটি ট্রেনিং সেন্টার। সুদৃশ্য তোরণ পেরিয়ে ঝকঝকে ট্রেনিং সেন্টারটি। আঙিনায় নানা ফুলের গাছ রঙের প্রদর্শনী মেলে বসেছে। স্থানীয়রা এটিকে লালমাইয়ের রাজপ্রাসাদ বলে থাকেন। ঝকঝকে গ্লাসে মোড়ানো ভবনটিতে যে কারই চোখ আটকে যায়। ভিতরে প্রতিটি ফ্লোরে দৃষ্টিনন্দন ডেকোরেশন। তবে ব্যবহার না হওয়ায় আসবাবপত্রে ধুলো জমছে। কোথাও দেয়ালে শ্যাওলারও দেখা মিলে। এখানে কোনো কর্মকর্তা নেই। বিশাল ভবনে দুজন কর্মচারী। একজনের আবার এক বছরের বেশি সময় ধরে বেতন নেই। স্থানীয় সমাজসেবক বাহারুল আলম সোহাগ বলেন, ভবনটি এলাকার দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বিকালে লোকজনকে এটির পাশে ভিড় করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে সেন্টারটি বেকার পড়ে আছে। এটিকে স্থানীয়রা লালমাইয়ের রাজমহল বলে থাকেন। এটিকে কাজে না লাগলে আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাবে। তত্ত্বাবধানে থাকা তথ্য প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক মাহবুবুল আলম বলেন, সেন্টারটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। এখন চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। তারা আক্ষেপের সঙ্গে জানান, এক বছর এক মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা যতটুকু জনিয়েছেন- এখানে তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে।
