‘চাপের মুখে’ বন্যায় উদ্ধার অভিযানে বিদেশি সহায়তা নিতে রাজি হলো নেপাল

অনলাইন ডেস্ক

ব্যাপক কূটনৈতিক চাপের মুখে আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার অভিযানে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের উদ্ধারে টানেল থেকে উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক কাজে সীমিত পরিসরে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেয়া হবে।

শুক্রবার দুপুরে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যাকবলিত এলাকায় আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ ছিল। এ কারণে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার এ রিপোর্ট লেখা (সকাল ১০টা) পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপালেই ৫৭৯ জনের মরদেহ মিলেছে। আর চীনের তিব্বতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জন।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১৭৮ জন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার টানেল উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেনসিক কাজে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি দলকে নেপালে আসার অনুমতি দিয়েছে। তবে আরও কয়েকটি দেশ নেপালকে ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও তাদের অনুরোধ এখনো গ্রহণ করা হয়নি।

ভারত পাঠাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা দল

ভারত নেপালে টানেল উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা দল এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (NDRF) সদস্যদের পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। একই দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নেপালকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির সরকার সেগুলো মূল্যায়ন করছে।

তিনি জানান, নেপালে পাঠানো চতুর্থ দফার ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে ১১ সদস্যের চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও টানেল উদ্ধারকারী দলও পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ারও সহায়তার প্রস্তাব

দক্ষিণ কোরিয়াও নেপালে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানালের সঙ্গে কথা বলেন এবং নেপালে থাকা দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নেপালে দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চো হিউন জানান, দুর্যোগকবলিত এলাকায় পাঠানো তাদের ‘প্রম্পট রেসপন্স টিম’ যেন নির্বিঘ্নে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে জন্য নেপাল সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত কোরিয়া ডিজাস্টার রিলিফ টিম (KDRT) পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

মৃতদেহ শনাক্তেও বিদেশি বিশেষজ্ঞ

নেপালের নিজস্ব গবেষণাগারগুলোতে ডিএনএ পরীক্ষা করার সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করতেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়া হবে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights