হড়কাবানে নিশ্চিহ্ন চীনা সীমান্তবন্দর, ধ্বংসস্তূপে মিলছে না প্রাণের চিহ্ন
অনলাইন ডেস্ক
হড়কাবান তথা আসম্মিক পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ঢেউ ও কাদাধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে চীনের গিরং সীমান্তবন্দর। সেখানে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন্যার ঢেউয়ে সীমান্তবর্তী ওই স্থাপনা পুরোপুরি প্লাবিত ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। শুক্রবার সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন চীনা উদ্ধারকর্মীরা।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে উদ্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে জীবিত কাউকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সামান্যতম আশাও যতক্ষণ রয়েছে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৮০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত ওই স্থলবন্দরে শুক্রবার বিকালে উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়।
উদ্ধারকারী দলের প্রধান লিউ মাওলিন চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, কাদাধসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা ভবনগুলোর অধিকাংশই সম্পূর্ণ ধসে গেছে। কোথায় ভবন ছিল, তারও কোনও স্পষ্ট চিহ্ন এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পুরো এলাকা পুরু কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও কাদা ও ধ্বংসস্তূপের স্তর অত্যন্ত গভীর। সীমান্তবন্দরের অবকাঠামোও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি, মেলেনি কোনও প্রাণের সন্ধান
উদ্ধারকর্মীরা শুক্রবার পর্যন্ত কোনও জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পাননি। তারপরও অভিযান বন্ধ না করার কথা জানিয়েছেন দলটির প্রধান।
লিউ মাওলিন বলেন, “যতক্ষণ সামান্যতম আশাও থাকবে, আমরা কখনো হাল ছাড়ব না।”
উদ্ধারকারীরা ভারী সরঞ্জাম নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান করছেন। দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকর্মীদের প্রত্যেককে ভারী ওজনের বেশ কিছু সরঞ্জাম বহন করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে সৃষ্ট শারীরিক ঝুঁকি।
উচ্চতার কারণে কঠিন উদ্ধার অভিযান
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৮০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক কাজ করাও উদ্ধারকর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অক্সিজেনের স্বল্পতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সামান্য হাঁটাচলাতেও তাদের শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে সাধারণ কয়েক কদম হাঁটলেও বুকে চাপ অনুভূত হওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এর মধ্যেই উদ্ধারকারীরা ভারী সরঞ্জাম নিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। ধসে পড়া স্থাপনার নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তারা ধাপে ধাপে এলাকা পরিষ্কার করছেন।
অবকাঠামো প্রায় নিশ্চিহ্ন
উদ্ধারকারী দলের প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, কাদাধসের প্রভাব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ক্ষতিগ্রস্ত গিরং বন্দর এলাকার ভবনগুলোর অধিকাংশের কাঠামোগত অস্তিত্বই এখন আর বোঝা যাচ্ছে না।
পুরু কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে গেছে সীমান্তবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা। অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে উদ্ধারকারী দল সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চীনের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়ে। এখন উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য—ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধান করা এবং নিখোঁজদের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব তথ্য নিশ্চিত করা। সূত্র: সিএনএন
