বন্যার তাণ্ডবে কাইলাস তীর্থযাত্রীদের অনেকে এখনও নিখোঁজ, যে কারণে এই পর্বত এত গুরুত্বপূ
অনলাইন ডেস্ক
নেপাল ও চীনের সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া বহু মানুষ। বুধবার হিমবাহ ধসের পর নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে বহু মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হন। এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে হিমালয়ের কৈলাস পর্বত এবং এর গুরুত্ব।
কৈলাস পর্বত তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৬ হাজার ৪০০ মিটারের বেশি। কাছেই রয়েছে মানস সরোবর। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতি বন ধর্মীয় ঐতিহ্যে এই পর্বতকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত শিব ও পার্বতীর আবাসস্থল। তিব্বতি বন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এটি আধ্যাত্মিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হিন্দু ও বৌদ্ধদের বিশ্বাসে কৈলাসের সঙ্গে পৌরাণিক মেরু পর্বতেরও সম্পর্ক রয়েছে।
প্রতিবছর কৈলাস মানস সরোবরকে ঘিরে তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ভারত সরকার জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থায় কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রার আয়োজন করে। নেপালের পথ ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তীর্থযাত্রার আয়োজন করে।
তীর্থযাত্রীরা সাধারণত কৈলাস পর্বতে আরোহণ করেন না। বরং পর্বতটিকে ঘিরে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার পথ হেঁটে প্রদক্ষিণ করেন। এই যাত্রা সম্পন্ন করতে সাধারণত প্রায় তিন দিন সময় লাগে। হিন্দু ও বৌদ্ধরা সাধারণত ঘড়ির কাঁটার দিকে পর্বত প্রদক্ষিণ করেন। বন ধর্মাবলম্বীরা বিপরীত দিকে প্রদক্ষিণ করেন।
বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস প্রদক্ষিণ করলে পাপ থেকে মুক্তি ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধি অর্জন করা যায়। কাছের মানস সরোবরে কিছু হিন্দু তীর্থযাত্রী আধ্যাত্মিক শুদ্ধির অংশ হিসেবে স্নানও করেন।
এবারের আকস্মিক বন্যায় এই তীর্থযাত্রীদের অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের অন্তত ১৭৮ জন রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই তীর্থযাত্রায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকরাও নিখোঁজ রয়েছেন।
আধ্যাত্মিক গুরু জগ্গি বাসুদেব, যিনি সদগুরু নামেও পরিচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁর ইশা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কৈলাস থেকে ফেরার পথে ৭৭ জন তীর্থযাত্রী বন্যার সময় তিব্বতের গিরংয়ের একটি অভিবাসন কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট বন্যা ও কাদার স্রোতে এরই মধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজ তীর্থযাত্রীসহ অন্যদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
