সারের চাহিদা-বরাদ্দে অসামঞ্জস্য, সংকট মোকাবিলায় সাত দফা দাবি ডিলারদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজারের বেশি। অথচ সেপ্টেম্বর মাসে পুরো জেলার জন্য টিএসপি সার বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। কৃষকের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় নন-ইউরিয়া সারের এই বরাদ্দ অপ্রতুল বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিট। সংগঠনটি কৃষকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

আজ রবিবার বেলা ১১টায় নগরীর রেলগেট এলাকার বিএফএ রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জেলা ইউনিটের সভাপতি ওছমান আলী। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, কোষাধক্ষ্য আবদুল গণি, নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান ভুট্টো, লাল মোহাম্মদ সরদারসহ অন্য সদস্যরা।

সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী জেলায় টিএসপি ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন, এমওপি ১ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ৩ হাজার ১৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ হয়েছে। টিএসপির এই বরাদ্দ প্রায় ২০ হাজার ৯০০ বস্তা। প্রত্যেক কৃষককে এক বস্তা করে দিলেও এই সার দেওয়া সম্ভব হবে মাত্র ২০ হাজার ৯০০ কৃষককে।

বিএফএর নেতারা বলেন, সরকারি বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে সমানুপাতিক হারে বিতরণ করলে একজন কৃষকের ভাগে আনুমানিক ২ দশমিক ৫ কেজি টিএসপি, ৪ কেজি এমওপি ও ৭ কেজি ডিএপি পড়ে। তাই কৃষকের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তবে ডিলারদের দাবি, রাজশাহীতে সার নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। বাফার ও বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রয়োজনের আগে সার কিনে রাখার প্রবণতা এবং কৃষিজমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উপ-বরাদ্দ, মাছ চাষের পুকুরের জন্য সার বরাদ্দ এবং ডিলারদের কমিশন পুনর্নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।

বিএফএ নেতারা বলেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। কোনো ডিলার বা বিক্রয় প্রতিনিধি অনিয়ম করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; একজনের অনিয়মের দায় পুরো ডিলার সমাজের ওপর চাপানো ঠিক নয়।

সার সংকট মোকাবিলায় সাত দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- কৃষকের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উপ-বরাদ্দের ব্যবস্থা করা, মাছ চাষের পুকুরের জন্য বাণিজ্যিকভাবে সার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা, সার পরিবহন, শ্রমিক, ব্যাংকিং ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় ডিলারদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ করা, সার ব্যবহারে কৃষকদের মধ্যে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক কৃষি পরামর্শের প্রচার বাড়ানো, অগ্রিম ও অপ্রয়োজনীয় সার ক্রয়ের প্রবণতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও কোনো ব্যক্তির অনিয়মের দায় সমগ্র ডিলার সমাজের ওপর না চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights