কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
রাঙামাটি প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল। সাই সাই করে নামছে উজানের পানি। মুহূর্তে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল। ডুবে যাচ্ছে বসতঘর, ফসলসহ জমি আর সড়ক। এ যেনো চোখের সামনে সোনালি স্বপ্ন তছনছ। অসহায় কৃষাণ-কৃষানীদের যেনো কিছুই করার নেই। কোনো পূর্বভাস ছাড়াই এক রাতে পানিবন্দি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহ ধরে কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি। গুঁড়ি গুঁড়ি আর ভারী বৃষ্টি ছিল রাতদিন। তাই গেলো কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের সাথে সংযুক্ত কাচালং, মাচালং ও মাইনি নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী বসতঘর, ফসলি জমি, গবাদি পশুর খামার। পানির স্রোতে হুমকির মুখে পড়েছে ৬টি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল।
অন্যদিকে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের পানির চাপ বেড়েছে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধে। তাই গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে রাঙামাটি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে প্রতি সেকেন্টে পানি ছাড়া হচ্ছে ৯ হাজার কিউসেক। তবুও কমছে না কাপ্তাই হ্রদের পানি। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুলকার্ভ অনুযায়ী পানি রয়েছে ১০৬. ২২ এমএসএল। যা বিপদসীমার খুব কাছাকাছি। কারণ ১০৯.০০ ফুট পানি ধারণক্ষমতা রয়েছে কর্ণফুলী কাপ্তাই বাঁধের। তাই বাঁধের ভারসাম্য রক্ষা করতে কর্ণফুলীতে পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে, যাতে কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফুলী নদীর পানির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে উভয় জলাধারই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। ফলে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক ও সমান থাকবে এবং কোথাও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে না।
তিনি বলেন, জলকপাটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছে। এছাড়া, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন হচ্ছে।
