ডিজিটাল সেবার চিত্র অনেকটাই ম্যানুয়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল সেবার কথা বলা হলেও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্সের বাস্তব চিত্র অনেকটাই ম্যানুয়াল। অনলাইনে আবেদন করার পরও নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হচ্ছে। দুর্বল অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটসংকট, তথ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং কার্যকর অভিযোগব্যবস্থার অভাবে ই-সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকরা। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সুশাসনের বর্তমান অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা ফেলো তামিম আহমেদ ও গবেষণা সহযোগী সাবিহা শারমিন। সিপিডি এ গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের মাত্র ৩১ দশমিক ৯ এবং যুবকদের ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি অনলাইনে সেবা নিতে পেরেছেন। অনলাইনে আবেদন করার পরও ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী এবং ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ যুবককে সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘মানুষকে সেবা নিতে বারবার সরকারি অফিসে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়রানি ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

বেসরকারি সংগঠন নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের ডেপুটি টিম লিডার ক্যাথরিনা কোনিগ বলেন, ‘কেবল ডিজিটাল সেবা চালু করলেই সেটি নাগরিকবান্ধব হয়ে যায় না। সেবাটি কতটা সহজ, নিরাপদ ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।’ আই সোশ্যালের চেয়ারপারসন অনন্য রায়হান বলেন, ‘দুর্নীতি, হয়রানি ও অভিযোগব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র জানতে পরিমাণগত জরিপের পাশাপাশি গুণগত গবেষণাও প্রয়োজন।’ এটুআইয়ের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ফজলুল জাহিদ বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের তথ্য ও সেবা একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি। এতে নাগরিকদের বারবার একই তথ্য বা কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াও সহজ হবে।’ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আমিনুল মোহাইমেন বলেন, ‘সরকারি সেবার প্রকৃত চিত্র বুঝতে গবেষণায় সুবিধাবঞ্চিত এবং শহরের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।’ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সাইটসেভার্সের বাংলাদেশ কার্যালয়ের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন কোঅর্ডিনেটর খন্দকার সোহেল রানা বলেন, ‘সেবা ও সুশাসনের বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights