সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, ‘গডফাদার’ সুমনসহ তিনজন কারাগারে

বাগেরহাট প্রতিনিধি

সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে ‘বিষ সন্ত্রাসীদের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত শাহরিয়ার সুমনসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মোংলার বৈদ্যমারী বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

সুন্দরবন বিভাগ জানায়, গত শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটিখাল থেকে বিষ দিয়ে মাছ ধরে ফিরছিলেন শাহরিয়ার সুমনের দুই সহযোগী। এ সময় বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুড়িয়া এলাকার স্থানীয়রা তাদের ২০০ কেজি মাছ ও একটি নৌকাসহ আটক করে। পরে সুমনের লোকজন হুমকি দিয়ে আটক মুহিদুল হাওলাদার ও নাঈম শেখকে নৌকা ও মাছসহ ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনার সৃষ্টি হয়। সুন্দরবন বিভাগ রবিবার শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিষ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

সুন্দরবন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মেলে। বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি সুমনসহ তার দুই সহযোগীদের বিরুদ্ধে বন বিভাগকে মামলা দায়ের ও তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

পরে মঙ্গলবার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বকুল হোসেন বাদী হয়ে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তারপরেই পুলিশ মঙ্গলবার মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী বাজার এলাকা থেকে সুমন ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে।

এদিকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শাহরিয়ার সুমন সুন্দরবনের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের জন্য প্রায় ৫০টি নৌকায় ২০০ জনেরও বেশি জেলেকে সংগঠিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সুমনের নেতৃত্বে এসব জেলেরা গভীর রাতে অবৈধভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছিল। এই অপকর্মে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত আছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সুন্দরবনের পাশের লোকালয়ের বাসিন্দারা।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের মামলায় শাহরিয়ার সুমনসহ তার দুই সহযোগীতে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সুমনের এই অপকর্মে আরও কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights