ফুলবাড়ীতে পরকীয়া করতে গিয়ে পরনের কাপড় ফেলে পালিয়েছেন প্রধান শিক্ষক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ০৩.০৯.২৬
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পরকীয়া করতে গিয়ে জনগণের রোষানল থেকে পালিয়ে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষক এলাকা ছাড়া হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার মধ্যরাবাইতারী গ্রামের নেওয়াশী বাজারের পশ্চিম পাড়ায়।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মধ্যরাবাইতারী নেওয়াশী বাজারের পশ্চিমে মোঃ হবিবর রহমানের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মৌসুমী আক্তারের (৩৬) সঙ্গে একই গ্রামের উত্তর রাবাইতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃত বক্তার মুন্সীর ছেলে মোঃ নুরুল আমিন নুরুর (৪৯) সঙে দীর্ঘদিন থেকে তার বিদ্যালয়ে চাকুরীর লোভ দেখিয়ে পরকীয়া করে আসছিল। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্ত ধূর্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন নুরু কাউকে পাত্তা না দিয়ে দেদার্চ্ছে পরকিয়া চালিয়ে যায়। পরবর্তিতে এলাকার লোকজন এবং মৌসুমির স্বামীর পরিবারের লোকজন প্রধান শিক্ষকের বিচার চেয়ে স্থানীয় ভাবে মানববন্ধনসহ মিছিল মিটিং করেন। কিছুদিন ওই প্রধান শিক্ষক লোক চক্ষুর আড়ালে থেকে পালিয়ে বেড়া অবস্থায় গত মঙ্গলবার মৌসুমিকে তার নিজস্ব বাড়ীর সামনে বড়ভাই বদরুল আমিন দুলালের পরিত্যাক্ত বাড়ীতে সন্ধ্যার পর ডেকে নিয়ে আবারও পরকিয়ায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে বাড়ীটি ঘেরাও করে রাখে। পরবর্তিতে এলাকায় লম্পট নামে খ্যাত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন নুরু তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পরনের লুঙ্গি, অবৈধ কাজে ব্যবহার করার গামচা এবং পায়ের স্যান্ডেল ফেলিয়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন তার পিছনে পিছনে দৌড় দিয়ে তাকে আটক করতে না পারলেও মৌসুমীকে তার বাড়ীতে থেকে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা সালিশ বৈঠকের চেষ্টা করে বুধবার বিকালে স্থানীয় বটতলা বাজারের পাশে প্রকাশ্যে সালিশে লোকজন জড়ো হলেও প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন নুরু উপস্থিত হন নি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে মৌসুমির স্বামী হবিবর রহমান স্ত্রীর পরকিয়ায় অতিষ্ট হয়ে কাজী অফিসে গিয়ে তাকে তালাক প্রদান করেন।
হবিবর রহমান জানিয়েছেন, আমি আমার দুই নাবালেক মেয়েকে নিয়ে থাকবো। কিন্তু চরিত্রহীন স্ত্রীকে নিয়ে আর থাকবো না।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব মুন্সী তার ভাষায় লম্পট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান। এবং তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক শুধু মৌসুমীর মত নারী না তিনি তার বিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তার দৈহিক সম্পর্ক এলাকায় চাউর হয়ে আছে। মানুষ তাকে পেলে কি যে হবে জানিনা।
সালিশে আসা নেওয়াশী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলী জানান, প্রধান শিক্ষকসহ অনেকে তাকে সালিশে ডেকেছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সালিশ বৈঠকে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন নুরুর সঙে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
এনিয়ে বর্তমানে ওই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights