কর্মী সংকটের মধ্যেও বিদেশিদের জন্য কেন কঠোর হচ্ছে জাপান : দেশ ছাড়ার ভাবনা অনেকের
অনলাইন ডেস্ক
বিদেশিদের জন্য অভিবাসন ও স্থায়ী বসবাসের নিয়ম আরও কঠোর করছে জাপান। নতুন নিয়মে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির ফি ২০ গুণ বেড়ে ২ লাখ ইয়েন হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করা অনেক বিদেশিও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে নতুন ফি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের আয় গড় জাপানি পরিবারের আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ৩০ বছরের পেনশন সুবিধার সমপরিমাণ তহবিল থাকার পাশাপাশি মধ্যবর্তী স্তরের জাপানি ভাষাজ্ঞানও প্রয়োজন হবে।
বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্যও নিয়ম কঠোর করেছে জাপান। ‘বিজনেস ম্যানেজার ভিসা’র জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন ৫০ লাখ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ইয়েন করা হয়েছে।
গত বছর জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজারের বেশি চীনা নাগরিক রয়েছেন। প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন নাগরিকও জাপানে বসবাস করছেন।
বিদেশিদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যবিমার অর্থ না দেওয়া, আবাসনের দাম বাড়ানো এবং ভুয়া কোম্পানি তৈরি করে বসবাসের অনুমতি নেওয়ার মতো অভিযোগ সামনে আসার পর এসব নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ‘জাপান-ফার্স্ট’ রাজনীতির উত্থান হয়েছে। অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নেওয়া ডানপন্থী দল সানসেইতোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে।
তবে নতুন নিয়ম নিয়ে বিদেশি বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কিছু ভারতীয় ও নেপালি রেস্তোরাঁর মালিক ভিসা নবায়ন না পাওয়ায় ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে খবর রয়েছে।
অন্যদিকে, জনসংখ্যা ও কর্মী সংকটও জাপানের বড় চ্যালেঞ্জ। গত বছর দেশটির প্রজনন হার ১ দশমিক ১৪-এ নেমে যায়। ফলে একদিকে কর্মী সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের প্রয়োজন, অন্যদিকে অভিবাসন নিয়ে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে জাপান সরকারকে।
সূত্র: সিএনএন
