২ লাখ ৯৪ হাজার ইয়াবা জব্দ, দুই কারবারি আটক

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারে পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি ও একটি নৌকাও জব্দ করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীন পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহলদল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী আঞ্জুমানপাড়ার ফাইসা খাল এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় জেলের ছদ্মবেশে মাছের ঝুড়ি হাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এক ব্যক্তিকে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

পরে তার হাতে থাকা মাছের ঝুড়ি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বাটন মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তি উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ইমরান (৩৪)।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে খারাংখালী সীমান্ত দিয়ে দুই ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবির টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুটি পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পোটলা দুটি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, পূর্ব ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় নিয়মিত পোস্ট ডিউটির সময় মাঝির ছদ্মবেশে মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি। তাকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি নৌকা থেকে লাফ দিয়ে সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যান। পরে নৌকাটি তল্লাশি করে পাটাতনের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো একটি ব্যাগ থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারে ব্যবহৃত নৌকাটিও জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি শীলখালী চেকপোস্টে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি চালান। বিজিবির ডগ ‘হেনরি’ (নারকোটিক্স) দিয়ে তল্লাশির সময় গাড়ির চালকের স্টিয়ারিংয়ের পাশে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গাড়িচালক মো. ওমর ফারুক (১৯)কে আটক করা হয়। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী তুতখালী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। একই সঙ্গে মাদক পাচারে ব্যবহৃত চাঁদের গাড়ি ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। অন্যদিকে, ওমর ফারুক টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights