এয়ারবাস কেনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেওয়ার আহ্বান ইইউ রাষ্ট্রদূতের

অনলাইন ভার্সন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইইউভুক্ত ২৭ দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

এয়ারবাস কেনার বিষয়টি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার অংশ কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত এবং আমরা এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে খুব দ্রুত আলোচনা সমাপ্তির প্রত্যাশা করছি।

মাইকেল মিলার বলেন, আমরা অনুরোধ করছি তা হলো সব ক্ষেত্রে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। সুতরাং যদি আপনার কোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয় এবং আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যেকোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।

বৈঠকে বিএনপি সরকারের ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করতে সরকারের অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ইইউর পক্ষ থেকে এর আগে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ৬১টি অশুল্ক বাধার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় মাসে ৪৮টি পুরোপুরি দূর করা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ৬১টি প্রতিবন্ধকতা ছিল। তার মধ্যে ৪৮টি পুরোপুরি সমাধান হয়েছে, বাকিগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে চলতি বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ আবেদন করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন আমরা তো তিন বছর পেছানোর জন্য আবেদন করেছি। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের দুইটা- মানে এই প্রসেসের দুইটা প্রক্রিয়া আমরা শেষ করেছি আর এই প্রক্রিয়ার দুইটা ধাপ আমরা অতিক্রম করেছি- ইউএন সিডিপি আর ইকোসকো।

তিনি আরও বলেন, আর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটা উত্থাপিত হলে আমরা আশা করছি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্মতি পাব। এটিই তাদের সমর্থন। এদিকে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights