ব্যবহার ছাড়াই ধ্বংসস্তূপ ৪ কোটির সুইমিং পুল

সাইদ মেমন, বরিশাল

সাঁতারু তৈরির স্বপ্ন নিয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল বরিশাল জেলা সুইমিং পুল। কিন্তু উদ্বোধনের পর এক দিনের জন্যও ব্যবহার করা হয়নি পুলটি। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে এখন এটি পরিণত হয়েছে জরাজীর্ণ স্থাপনায়। বরিশাল নগরীর চাঁদমারি এলাকায় কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের পাশে নির্মিত এ সুইমিং পুলের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষে ২০০০ সালের ১১ এপ্রিল পুলটির উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই পুলে পানি ধরে রাখা যায়নি। ফলে আর চালু করা সম্ভব হয়নি। বরিশাল স্টেডিয়ামের পাম্প অপারেটর মামুন খান বলেন, সুইমিং পুল নির্মাণ করা হলেও পাম্প দিয়ে পানি উঠত না। বিকল্প পন্থায় পানি দেওয়া হলেও পানি থাকত না। তাই কখনো সুইমিং পুলে কেউ সাঁতার কাটতে পারেনি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্মাণের সময়ই পুলের বেসিনে ত্রুটি ধরা পড়ে। পরীক্ষামূলকভাবে পানি তোলার পর পুলে ফাটল দেখা দেয়। পরে কয়েক দফা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পানি ধরে রাখার সমস্যার সমাধান হয়নি। বর্তমানে পুলটি জঙ্গলে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। পুলের চারপাশের রেলিং ভেঙে পড়েছে মেঝের টাইলসের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। চারপাশে আগাছা ও আবর্জনা জমেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানির পাম্পসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো যন্ত্রাংশ নেই। নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে থাকা আনসার সদস্য জানালেন নিচের একটি কক্ষ ক্রিকেটার কোচরা ব্যবহার করে। আরেকটি সাবেক ক্রিকেটাররা তাদের ক্লাব হিসেবে ব্যবহার করছে।

স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে এ সুইমিং পুলটি নির্মাণ করা হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও নির্মাণত্রুটির কারণে এর সুফল পাননি বরিশালের মানুষ। শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখা কিংবা প্রশিক্ষিত সাঁতারু তৈরির যে লক্ষ্য ছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। নগরীর একমাত্র এই সুইমিং পুল দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাদের দাবি, পুরোনো স্থাপনা সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব না হলে নতুন করে আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণ করতে হবে। এতে বরিশাল থেকে নতুন সাঁতারু তৈরির পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখার সুযোগও তৈরি হবে। বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মশিউল আলম মঞ্জু বলেন, ক্রীড়া সচিব এসেছিলেন। তিনি পুলের বিভিন্ন ড্রোন ফুটেজ নিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পুলটি ভেঙে ফেলে নতুনভাবে করার দাবি জানিয়েছি। তিনিও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights