দেশের হয়ে খেলতে বিগ ব্যাশের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন স্যান্টনার

স্পোর্টস ডেস্ক

বিগ ব্যাশ লিগে খেলার আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক হাতছানির চেয়ে দেশের ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তি বেছে নেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এর ফলে তাঁরা বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। স্যান্টনারের সামনেও ছিল একই পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিগ ব্যাশের সময়েই নিউ জিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মৌসুম চলায় দেশটির ক্রিকেটারদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও জাতীয় দলের দায়িত্বের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। টিম সাইফার্ট, অ্যাডাম মিল্ন, লকি ফার্গুসন, ফিন অ্যালেন ও মার্ক চ্যাপম্যানের মতো ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তির পথে হেঁটেছেন। একই ধরনের চুক্তিতে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও।

নিউ জিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আর্থিক আয় তুলনামূলক কম হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট অনেক ক্রিকেটারের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে। তবে স্যান্টনার মনে করছেন, দেশের ক্রিকেটে তাঁর এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডকে স্যান্টনার বলেন, বিগ ব্যাশের প্রস্তাবটি সত্যিই আকর্ষণীয় ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েই ভেবেছেন।

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা বলব না, প্রস্তাবটি ভালো ছিল। তারা জানত, চুক্তির শর্ত এবং সামনে যা কিছু আসবে, সবকিছু বিবেচনায় রেখেও প্রস্তাবটি আকর্ষণীয় হতে হবে। আমিও বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাদের সামনে যা কিছু আছে, সেদিকে তাকালে মনে হয়, টেস্টে আমি প্রতিটি ম্যাচ না খেললেও দলে আমার একটি ভূমিকা থাকবে।’

সাদা বলের অধিনায়কত্বও তাঁর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তিতে থেকেও নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তবে সেটিকে উপযুক্ত মনে হয়নি স্যান্টনারের।

তিনি আরও বলেন, ‘অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাই না আমি। আমার জন্য তাই সিদ্ধান্তটি নেওয়া সহজ ছিল। অবশ্য এমন আলোচনাও হয়েছিল যে, একটা পথ বের করা যেত। কিন্তু কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থেকে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা এই পর্যায়ে ঠিক হতো কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।’

সামনে নিউ জিল্যান্ডের জন্য ব্যস্ত সাদা বলের সূচি। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং তার পরের বছর দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দুটি টুর্নামেন্টেই দলের নেতৃত্ব দিতে চান তিনি। স্যান্টনার বলেন, ‘আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে। তার পরের বছর নিউ জিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমি এসবের অংশ হতে চাই। তখনও যদি দলের নেতৃত্ব দিতে পারি, তাহলে দারুণ হবে।’

তবে সতীর্থদের ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন না স্যান্টনার। বরং নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের আর্থিক বাস্তবতা তিনি বুঝতে পারছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights