ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় তিনজনের প্রাণহানি
অনলাইন ডেস্ক
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে ইউরোপীয় সেনা পাঠানো হলে তা মস্কোর সাথে সরাসরি সংঘাতের শামিল হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেট চালিত ড্রোন ব্যবহার করে করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে রাশিয়া।শীতকালকে সামনে রেখে মস্কো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কর্মকর্তাদের মতে এসব হামলার মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক প্রধান ইভান ফেদোরভ শনিবার জানান, রাতে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরের একটি আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ক্রিভি রিহ শহরে হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী ওদেসা ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হামলায় ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ কিপার। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে একটি বহুতল আবাসিক ভবনও রয়েছে, যার ওপরের তলাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে গতকাল ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পুতিন বলেন, ইউরোপীয় সরকারগুলো যদি ইউক্রেনে সেনা পাঠায়, তবে তার অর্থ হবে ‘রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ’। তিনি বলেন, এখন তারা ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলছে। এর অর্থ হলো রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করা।
ইউরোপের কয়েকজন নেতা সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, তবে এমন উদ্যোগকে মস্কো বারবার ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। পুতিন ইউরোপের জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো হুমকি থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো হুমকি নেই এবং কখনোই ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোকে হুমকি দিচ্ছি না, কিংবা হুমকি দেওয়ার কোনো ইচ্ছাও আমাদের নেই। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বৃহস্পতিবার বলেন, এই সপ্তাহে পোল্যান্ড ও মলদোভার সাথে ইউক্রেনের সীমান্তে ঘটা দুটি ঘটনা ছিল ইউরোপের সাথে ইউক্রেনের সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্টগুলোতে রাশিয়ার সম্ভাব্য তীব্র উসকানির একটি পূর্বাভাস।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেন ও মলদোভার মধ্যকার স্তারোকোজাচি সীমান্ত ক্রসিংয়ে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। অন্যদিকে বুধবার রাতে পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের মধ্যকার একটি ক্রসিং পয়েন্টে সৃষ্ট ‘সরাসরি হুমকি’ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল ওয়ারশ ও কিয়েভের পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
