মুখোমুখি লড়াইয়ে হুতি ও সরকারি বাহিনী, সৌদিতেও হামলা

অনলাইন ডেস্ক

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখার পতনের পর হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজের কাছে কাধা এলাকায় দুই পক্ষ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে হুতিরা। এর মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।

তাইজ শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মাকবানাহ জেলার কাধা এলাকায় হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ চলছে। বৃহস্পতিবার মোখা শহরের পতনের পর এটিই দুই পক্ষের প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সংঘর্ষ বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা। উভয় পক্ষই সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে।

উত্তরাঞ্চলের মারিবেও হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ মাস ক্যাম্পের কাছেও চলছে সংঘর্ষ। সেখানে গোলাগুলির পাশাপাশি হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।

তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ মারিব ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরটিতে বড় সামরিক স্থাপনাও রয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলে এটি সরকারি বাহিনীর প্রধান সরবরাহ ঘাঁটি। মারিবের নিয়ন্ত্রণ হারালে উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পশ্চিম উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দাবি, গত ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের পাঁচ শতাধিক সদস্য নিহত ও প্রায় দেড় হাজার আহত হয়েছেন।

হুতিদের দ্রুত অগ্রগতির পেছনে সরকারপন্থী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাজনও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর মধ্যে সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবেও। হুতিদের দাবি, রোববার তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

সৌদি আরবও হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেন সীমান্তের কাছে সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে দেশটি।

এদিকে হুতিদের ড্রোন হামলার জেরে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে মানবিক সংকটও বাড়ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই লোহিত সাগরের পশ্চিম তীর থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights