যেখানে শুধুই আবদুস সাদেক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধুলায় অনেকে অধিনায়ক হয়েছেন। জাতীয় দল ও ক্লাবকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেকের বেলায় ঘটনা অন্যরকম। ঢাকা আবাহনীর প্রথম অধিনায়ক ছিলেন তিনিই। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে আবাহনীর অভিষেক হয়েছিল। একই সঙ্গে আবাহনীর হকির প্রথম অধিনায়ক ছিলেন তিনিই। শুধু কি তাই, আবদুস সাদেক বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলেরও প্রথম অধিনায়ক। ১৯৭৭ সালের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কা হকি দল বাংলাদেশে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছিল। আন্তর্জাতিক হকিতে বাংলাদেশের অভিষেক হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বে। একে প্রথম অধিনায়কের হ্যাটট্রিক বলা যায়। তিন অধিনায়কের কীর্তি শুধু আবদুস সাদেকেরই।

আজ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সুপরিচিত মুখ আবদুস সাদেকের ৮০তম জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২০ জুন সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। আবদুস সাদেককে বলা হয় দেশের হকির কিংবদন্তি। বলা হতো ক্রীড়াঙ্গনের বাতিঘর। তাঁর ঝলমলে ক্যারিয়ারই তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশ্ব হকিতে পাকিস্তানের দাপট যখন তুঙ্গে। একের পর যখন বিশ্বকাপ জিতছিল সে সময়ে একমাত্র বাঙালি খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। হকিতে তাঁর হাতে ছিল যেন জাদুর লাঠি। দেশ ও বিদেশে মনোমুগ্ধকর পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। হকিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জাতীয় পুরস্কার পান।

আবদুস সাদেকের নৈপুণ্য শুধু হকিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ফুটবল খেলেও সুনাম কুড়িয়েছেন। আজাদ ও ভিক্টোরিয়া যখন শক্তিশালী দল গড়ত। তখন দুই দলে আস্থার সঙ্গে রক্ষণভাগে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বিতীয় বিভাগ লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৯৬৯ সালে প্রথম বিভাগ লিগে ওঠে দিলকুশা স্পোর্টিং। শক্তিশালী দল গড়তে পশ্চিম পাকিস্তানের মাকরানিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। সত্যি বলতে কী, ওই সময় মাকরানিদের টপকে দিলকুশার সেরা একাদশে সুযোগ পাওয়াটা ছিল চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। কিন্তু যোগ্যতা দেখিয়ে আবদুস সাদেক নিয়মিত খেলে সুনাম কুড়িয়েছেন। তাই ১৯৭২ সালে তারকাভরা আবাহনীর ফুটবল দলের প্রথম অধিনায়ক হন যোগ্যতার ভিত্তিতে। অধিনায়ক হিসেবে যেমন দলকে শিরোপা উপহার দিয়েছেন, তেমনি আবাহনীর কোচের দায়িত্ব পেয়েই দলকে অপরাজিত ট্রফি এনে দেন।

ক্রিকেটে শামিম কবির, ফুটবলে জাকারিয়া পিন্টু ও হকির আবদুস সাদেক-তিন বড় খেলার জাতীয় দলের তিন অধিনাকই মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যরা অধিনায়ক হয়েছেন ও নেতৃত্ব পাচ্ছেন। কিন্তু বিশেষ কিছু গুণাবলির জন্যই আবদুস সাদেকের খ্যাতিটা ছড়িয়ে পড়েছে। খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তাঁর সাংগঠনিক ক্যারিশমাও তাঁকে আলাদাভাবে চিনিয়েছে। যিনি ক্রীড়াঙ্গনকে শুধু দিয়েই গেছেন। এখন তাঁর স্মৃতি ধরে রাখাটা হবে নৈতিক দায়িত্ব। হকির এত বড় খেলোয়াড় ছিলেন। এখন কি উচিত হবে না হকি স্টেডিামের কোনো প্যাভিলিয়ন তাঁর নামে করা। এই সামান্য কাজটুকু করাটা কি কঠিন হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights