পাবনায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে আসামির বহুতল ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। বৃহস্পতিবার পাবনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার বিবরণ প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া ও আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে যান। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বহুতল ভবনের ভেতরে ঢুকে দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেন।
ঘটনায় অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনা তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। দেশে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার না হওয়া এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে আগেই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে গ্রামবাসীর বিশাল উপস্থিতির তুলনায় পুলিশ সদস্য কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙচুর থামানো সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতারর দুই আসামি মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী জানান, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আমার ধারণা অপরাধ আড়াল করতে আসামিরা নিখোঁজ কলিকে খোঁজার নাটকেও অংশ নেন এবং এলাকাবাসীর মানববন্ধনে যোগ দিয়েছিলেন।
